জালাল আহমদ, ঢাবি:

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ২০১৫ সালের মার্চে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে গুমের শিকার সালাহউদ্দিন আহমদ পেলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব । বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ২৫ জন সংসদ সদস্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় জনগুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে গুমের শিকার হয়ে দুই মাস নিখোঁজ ছিলেন ।

জানা গেছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারী থেকে শুরু হওয়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা আন্দোলনের ‘মুখপাত্র’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ । গোপনে অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে তিনি আন্দোলন ‘চাঙ্গা’ রেখেছিলেন।গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাঁকে আটকের জন্য খোঁজছিলেন । উত্তরার এক বন্ধুর বাসা থেকে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অপহরণ করেন। তাঁকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তাঁর স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ।পরবর্তীতে দুই মাস পর ২০১৫ সালের ১১ মে তাকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং শহরের গলফ লিংক মাঠে ‘মানসিক বিপর্যস্ত ‘ অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে।

১১ মে সকালে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শিলং পুলিশ স্টেশনে পুলিশের কাছে যান তিনি। পুলিশ তাকে ‘মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’ দেখে প্রথমে শিলং মানসিক হাসপাতালে,পরে শিলং সিভিল হাসপাতালে এবং সর্বশেষ শিলং শহরের বিশেষায়িত হাসপাতাল নিমগ্রিসে ভর্তি করান। মানসিক অসুস্থতার কোন ‘লক্ষণ’ পান নি চিকিৎসকরা।

মেঘালয় রাজ্যের পুলিশ ২০১৫ সালের ৩ জুন ভারতে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগ এনে বৈদেশিক নাগরিক আইনের ১৪ ধারায় সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রথমে শিলং জেলে এবং পরে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিলং শহর ছেড়ে না যাওয়ার শর্তে বিজ্ঞ আদালত পরে সালাহ উদ্দিন আহমদকে জামিন প্রদান করেন। ৯ বছর ধরে খাসিয়া খ্রীষ্টান অধ্যুষিত এলাকা শিলং শহরে ‘সানরাইজ গেষ্ট হাউজ’ নামক একটি দোতলা ভাড়া বাড়ীতে তিনি বসবাস করেছেন তিনি ।

মেঘালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সালাহউদ্দিন আহমেদকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ২২ জুলাই মামলার চার্জশীট দেয়া হয়। এই মামলায় ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর সালাহউদ্দিন আহমেদকে বেকসুর খালাস প্রদান করে শিলং আদালতের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ডিজি খার সিং রায় ঘোষণা করেন। প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের এই রায়ে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’কে সালাহ উদ্দিন আহমদকে দ্রুতততম সময়ে সমস্ত রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হস্তান্তর করার জন্য নির্দেশ দেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ যখন আদালতের রায় অনুযায়ী সে দেশের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ভারতের সরকার বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জজ আদালতে আপিল করেন। জজ কোর্টের রায়েও ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে খালাস পেয়েছেন তিনি।

ভারতে র্নিবাসিত থাকাবস্থায় ২০১৬ সালের আগস্টে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

ছাত্র- জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ফিরে আসেন ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি ।বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ।