আব্দুল্লাহ সায়েম:
রাজধানীর বঙ্গবাজারে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজে অসাধারণ সাহসিকতা এবং মানবিক দায়িত্ববোধের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ স্কাউটস কর্তৃক প্রদত্ত Gallantry Award–2023 অর্জন করেছেন আহসান উল্লাহ।
সারা দেশ থেকে এ বছর মাত্র তিনজন এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ স্কাউটসের গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড মূলত তাদের জন্য প্রদান করা হয়, যারা জীবননাশের ঝুঁকি উপেক্ষা করে অসাধারণ সাহসিকতা, আত্মত্যাগ এবং মানবিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসেন। এটি স্কাউটসের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা।
এই অর্জনের মাধ্যমে আহসান উল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি এবং কক্সবাজার জেলার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড লাভ করলেন।
এর আগে দেশের ইতিহাসে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মুগ্ধর মতো বীর স্কাউটদের এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।
২০২৩ সালের বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ড দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে আহসান উল্লাহ জীবননাশের আশঙ্কা উপেক্ষা করে সরাসরি আগুন নেভানো ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। আগুন, ধোঁয়া ও বিস্ফোরণের ঝুঁকির মধ্যেও তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে যান। তার এই সাহসিক ভূমিকা পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
আহসান উল্লাহ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ (DURS)-এর রিসার্চ ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গবেষণা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের সঙ্গে যুক্ত থেকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও যুব নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ভারতে আন্তর্জাতিক স্কাউটিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের নভেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্কাউটিং কর্মশালায় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার কৃতি সন্তান আহসান উল্লাহর এই অর্জনে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তার এই স্বীকৃতি তরুণ সমাজকে মানবিক ও সাহসী কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।।অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় আহসান উল্লাহ বলেন, “এই সম্মান আমার একার নয়। সেদিন যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছেন, এবং যারা নীরবে সাহস ও দোয়া জুগিয়েছেন,এই স্বীকৃতি তাদের সবার। এটি আমাকে আরও দায়বদ্ধ করে তুলেছে।”
বাংলাদেশ স্কাউটসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংকটের মুহূর্তে সাহস, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে এগিয়ে আসাই স্কাউটিংয়ের মূল দর্শন। আহসান উল্লাহর এই অর্জন সেই দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন।
