মোঃ আরাফাত সানি, টেকনাফ:

জনপ্রশাসনের বদলি নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, এক কর্মস্থলে টানা ৩ বছরের বেশি থাকা যাবে না। কিন্তু কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে সেই নীতিমালা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। সেখানে উপ-সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম টানা ১২ বছর ধরে একই চেয়ার আঁকড়ে ধরে আছেন। আর এই দীর্ঘ অবস্থানকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বলয়।

মৎস্য অফিস ও স্থানীয় সূত্রে অনুসন্ধানে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল টেকনাফে যোগদান করেন। নিয়ম অনুযায়ী ২০১৭ সালেই তার বদলি হওয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য শক্তির জোরে তিনি এখনো বহাল তবিয়তে। প্রায় এক যুগ একই জায়গায় থাকায় মৎস্য ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে জেলে পল্লী পর্যন্ত তার প্রভাব বিস্তৃত।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে ও মৎস্যজীবী নেতার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়টাই তার আয়ের মৌসুম।

সরকার ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা এবং সারা বছর জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করলেও টেকনাফে তা মানা হয় না। অভিযোগ উঠেছে, শহিদুল ইসলাম সিনিয়র কর্মকর্তা ও প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে জেলেদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করেন। টাকা দিলে নিষেধাজ্ঞার সময়ও অবাধে সাগরে মাছ ধরা ও জাটকা বিক্রির সুযোগ মেলে। ফলে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা।

ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির এক নেতা বলেন, “১২ বছর এক জায়গায় থাকলে যা হয়। উনি এখন নিজেই অফিস। কাকে কখন সুবিধা দেবেন, কার ঘেরের নিলাম কাকে দেবেন, সব উনার ইশারায় হয়।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায়সারা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “সরকার আমাকে রেখেছে। এখানে আমার কিছুই করার নাই।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিক চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল বলেন, “আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বদলি অধিদপ্তর থেকে হয়। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একজন উপ-সহকারী কর্মকর্তা কীভাবে ১২ বছর একই উপজেলায় থাকেন? এর পেছনে কারা মদদ দিচ্ছে? বিষয়টি দুদক ও মৎস্য অধিদপ্তরের তদন্ত করা উচিত বলে দাবি সচেতন মহলের।