স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মাঠপর্যায়ের ৪০ শতাংশের বেশি বা প্রায় ৩৫ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সরকারের ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতি বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে আলোচনা করতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এএনএম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এই নির্দেশনা আসে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ নির্দেশনাটির অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (প্রশাসন), বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের কাছে পাঠিয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম সভায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল সংকটের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া, শূন্য পদ পূরণে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে সরকার পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, আগস্ট পর্যন্ত অধিদপ্তরের ১ লাখ ২৭ হাজার ১০১টি পদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই শূন্য ছিল।

চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার ২০০ চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার পরও ২৪ শতাংশ পদ শূন্য থেকে যায়।

জনবল চিত্র বলছে, ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। এসব গ্রেডে স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা রয়েছেন। টিকাদান, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও প্যাথলজি সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব গ্রেডের মোট ৫৬ হাজার ৯০৮টি পদের মধ্যে ২০ হাজার ৯৯৫টি বা ৩৭ শতাংশ পদে জনবল নেই।

স্বাস্থ্য সহকারী অখিল উদ্দিন বলেন, প্রত্যেক স্বাস্থ্য সহকারীর একটি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে অনেককেই একাধিক ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অখিল এ মাসের শুরুতে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ‘আমরা শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, কিন্তু জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যশিক্ষার মতো আরও অনেক সেবা যথাযথভাবে দেওয়া সম্ভব হয় না।’

তীব্র জনবল সংকট ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে। তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রেডগুলোর অনুমোদিত ২৬ হাজার ২৯৫টি পদের মধ্যে ১৩ হাজার ৯৪৫টি বা ৫৩ শতাংশ পদই শূন্য ছিল।

যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলো থেকে শূন্য পদের বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার পর নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে অনুমোদিত পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বাজেট বরাদ্দের অভাবে যেসব কার্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে, সেসব কার্যালয়কে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ; চলতি অর্থবছরের বিস্তারিত তথ্য যোগ করে, মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে।

যেসব কার্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন করে পদ শূন্য হয়েছে, সেখানে ছাড়পত্র নিয়ে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলেছে মন্ত্রণালয়।

যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের নতুন করে অনুমোদন নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় বা আইনি জটিলতা, সীমানাসংক্রান্ত সমস্যা, কোটা সংক্রান্ত জটিলতা, প্রবেশ পত্রে ভুল অথবা সিটি করপোরেশন সংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি কার্যালয়গুলোকে দ্রুত সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্যসচিব বজলুর রশীদ বলেন, শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘আমরা তাদের জরুরিভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন তারা ইতোমধ্যে পেয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) স্বাস্থ্য ক্যাডারে পাঁচ হাজার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।