কক্সবাজার প্রতিনিধি :
কক্সবাজার জেলা ফুটবল দলের গোলরক্ষক সজিবুল ইসলাম সাঈদী ও উখিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য এবং বাফুফে রেফারি মোহাম্মদ শেখ সাঈদীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে কক্সবাজার জেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতি। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার ফুটবলার ও ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়, খেলোয়াড় সমিতির ১০ উপজেলার প্রতিনিধি ও সংগঠকেরা অংশ নেন।
ক্রীড়া সাংবাদিক ছৈয়দ আলমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ।
কক্সবাজার জেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি এম. জাহেদ উল্লাহর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন।
বক্তব্য দেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হারুন উর রশীদ, জাতীয় রেফারি ও উখিয়া উপজেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি সাঈফ মুন্না, সদর উপজেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি খালেদ হোসাইন, রামু উপজেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন রকি, সাবেক জাতীয় ফুটবলার নুরুল আবছার, মহেশখালী উপজেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির প্রচার সম্পাদক নাছির উদ্দীন, মাতামুহুরি উপজেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক বাবুল এবং জেলা ফুটবল দলের গোলরক্ষক মোবারক হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য শাহজাহান আনসারী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য আলী রেজা তসলিম, ক্রীড়া সংগঠক আবু ওবায়েদ উদ্দিন, সিরাজুল করিম, সাবেক ফুটবলার মনির আলম, রেফারি শফিউল আলম, ওমর ফারুক বাদশা, বিএসপিএ কক্সবাজার জেলা শাখার সদস্য বলরাম দাশ অনুপম, শাহেদ মিজান, রেফারি কামাল উদ্দিন ও ফুটবলার আবু হানিফ।
কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়। মানববন্ধন শেষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন ক্রীড়াবিদের ওপর প্রকাশ্যে দিনদুপুরে হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মাঠে জেলার প্রতিনিধিত্ব করা একজন খেলোয়াড় যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে তা পুরো ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অশনিসংকেত। কোনোভাবেই এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
তাঁরা বলেন, কক্সবাজার জেলা ফুটবল দলের গোলরক্ষক সাঈদী গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কক্সবাজারের ক্রীড়াঙ্গনকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও মানববন্ধন থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। প্রয়োজনে জেলার সব ধরনের খেলাধুলা থেকে বিরত থাকার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে-ই হোক, কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়।
তাঁদের মতে, একজন খেলোয়াড়ের ওপর হামলার বিচার না হলে ভবিষ্যতে ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত মামলা তদন্ত, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
সাঈদীর ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কক্সবাজারের ক্রীড়াঙ্গনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধন থেকে সাঈদীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জেলার খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন বলেন, “সাঈদীর ওপর হামলার বিচার শুধু একজন খেলোয়াড়ের জন্য নয়, কক্সবাজারের পুরো ক্রীড়াঙ্গনের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন।”
মানববন্ধন শেষে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
