প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ ও শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ তা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি তরুণ সমাজকে দেশ ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আপনাদের কাছে একটা সাহায্য চাই। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে স্কাউটের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ। ডিএনসিসির সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। এবার আপনারা বলেন, আমরা এতগুলো মানুষ যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, তাহলে কেউ কি আমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? পারবে না।”
তিনি বলেন, “এখন আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে কীভাবে দেশকে গড়ে তুলবেন। দেশকে গড়ে তুলতে হবে, কারণ আমরা এখানে থাকব।”
তরুণ সমাজের শক্তির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একটি দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই পরিবর্তন সম্ভব। তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন ঘটাতে পারে, তা তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা তরুণ সমাজই করেছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী তিন মাস সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হয়তো আমরা শতভাগ সফল হতে পারব না, কিন্তু ৮০ ভাগ পারব।”
তিনি বলেন, ভাঙাচোরা বিভিন্ন জিনিস, মাটির পাত্র কিংবা অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে। তাই সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে।
পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারব। এই মাঠে আজ আমরা যত মানুষ উপস্থিত রয়েছি, বিভিন্ন জেলায় অনলাইনে যারা যুক্ত হয়েছেন—সবাই যদি টিস্যু কিংবা পানি খাওয়ার বোতল মাঠে ফেলে দিই, কেউ কি আমাদের কিছু বলবে? বলবে না।”
তিনি বলেন, “কিন্তু আমাদের নিজের চোখে দেখতে কেমন লাগবে? যখন এই ময়লাগুলো জমে বড় আকার ধারণ করবে, সেখান থেকে রোগ-জীবাণু সৃষ্টি হবে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, তাতে আমার কী হবে, আমি তো দূরে থাকি। কিন্তু আপনার আপনজন কিংবা প্রিয়জন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। কাজেই আমরা নিজেদের ও পরিবারকে সুস্থ রাখি, নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি, দেশকে সুস্থ রাখি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতার কাজ খুব কঠিন নয়। শুরুতে কিছুটা কষ্ট হলেও প্রতি সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা সময় দিয়ে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থল পরিষ্কার করলে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, যারা যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন, তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। তাদের বলতে হবে—‘যেখানে-সেখানে ময়লা করবেন না।’
তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে দেশকে পরিবর্তন করতে হয়। পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার আমরা রাষ্ট্রকে, দেশকে পুনর্গঠন করি।”
