পেকুয়া প্রতিনিধি:
এক মুহূর্তের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একটি পরিবারের স্বপ্নের ঘর। চোখের সামনেই আগুনে প্রাণ হারিয়েছে গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরু। পুড়ে গেছে নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র। সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশেহারা পেকুয়ার আবু জাফর ও তার পরিবার।
রোববার সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের কুতুবপাড়ায় আবু জাফরের বাড়িতে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগুন লাগার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা বসতঘর ও গোয়ালঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল বের করার সুযোগ পাননি। এলাকাবাসী ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বসতঘর, গোয়ালঘরসহ অধিকাংশ মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসে একাধিকবার ফোন করা হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। তাদের দাবি, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই ঘর ও ভেতরে থাকা অধিকাংশ সম্পদ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বসতঘরে রাখা নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা, মূল্যবান আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ পরিবারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আকস্মিক এ ঘটনায় আবু জাফরের পরিবারটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনে গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরু, নগদ টাকা, বসতঘর এবং ঘরে থাকা মূল্যবান বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে। পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয়রা জানান, এক দিনের আগুনে একটি পরিবার তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জরুরি আর্থিক ও মানবিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
