এম. মনছুর আলম, চকরিয়া:

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীতে জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ দেওয়ার জেরে হামলার ঘটনায় মেহেদী হাসান সাকিব (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা ও দুই ভাইসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাতডালিয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ওইদিন রাত সোয়া ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাকিব মারা যান। নিহত সাকিব ওই এলাকার ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে পশু চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন—নিহত সাকিবের বাবা ওয়াজ উদ্দিন (৬৫) এবং তাঁর দুই ছোট ভাই আরফাত (১৮) ও মোশাররফ করিম (২১)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াজ উদ্দিনের ছোট ছেলে আরফাত লবণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। লবণের কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা তাঁর জুতা একই এলাকার মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে কাইফু চুরি করেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে আরফাতের সঙ্গে কাইফুর তর্কাতর্কি ও মারামারি হয়। পরে কাইফু তাঁর স্বজনদের নিয়ে আরফাতকে মারধর করে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় আরফাতের বড় ভাই মোশাররফ করিম বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ করার খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় হেলাল উদ্দিন মেম্বারের ছোট ভাই ও কথিত ‘বিচ্চু বাহিনী’র প্রধান বাহাদুরের নেতৃত্বে ইমন, কাইফুসহ ১৫-২০ জন নারী-পুরুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোশাররফ করিমের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় হামলায় বাধা দিতে গেলে স্থানীয় পশু চিকিৎসক মেহেদী হাসান সাকিব, তাঁর বাবা ওয়াজ উদ্দিন ও ছোট ভাই আরফাতকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে গুরুতর আহত সাকিবকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

সাকিবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগকারী ও আহত মোশাররফ করিম বলেন, “ছোট ভাই আরফাতের জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে হেলাল মেম্বারের ছোট ভাই কথিত বিচ্চু বাহিনীর প্রধান বাহাদুর, ইমন ও কাইফুসহ ১৫-২০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি আমাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমার বড় ভাইয়ের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, নিহতের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।