সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড-এর আওতাধীন রেডিয়েন্ট ওসান রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার (ROREC)-এর উদ্যোগে রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড, কক্সবাজারে “নীল অর্থনীতির গুরুত্ব ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ” শীর্ষক কক্সবাজার জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে ১ আগস্ট এক মতবিনিময় সভা, শিক্ষামূলক প্রদর্শনী ও গবেষণাগার পরিদর্শন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার প্রায় ১০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধান অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। এরপর ROREC-এর এক্সিকিউটিভ ও রিসার্চ অফিসার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম নীল অর্থনীতির (Blue Economy) গুরুত্ব, বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদের সম্ভাবনা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমুদ্রের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সমুদ্রবিষয়ক জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করণীয় বিষয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
• রাশেদ হাসান, জেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, জেলা শিক্ষা অফিস, কক্সবাজার।
• মোহাম্মদ উল্লাহ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উখিয়া, কক্সবাজার।
• শফিকুর রহমান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড
• প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ, রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড।
• মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, এক্সিকিউটিভ ও রিসার্চ অফিসার, ROREC।
পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ ROREC-এর বিভিন্ন গবেষণা, শিক্ষা ও সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা লাইভ সি-উইড (Seaweed) প্রদর্শনী ও চাষাবাদ প্রযুক্তি, সি-উইড টিস্যু ও স্পোর কালচার, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটনের জীবন্ত নমুনা, বায়োলজিক্যাল মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে প্ল্যাঙ্কটন পর্যবেক্ষণ, Marine Museum, Mollusk (Shell) Gallery, Water Parameter Test/Chemistry Laboratory, সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল (Marine Food Web), সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং সমুদ্র গবেষণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
মতবিনিময় পর্বে বক্তারা বলেন, নীল অর্থনীতির সফল বাস্তবায়ন কেবল সরকারের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামুদ্রিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শনকালে অতিথিরা সমুদ্রের অদৃশ্য অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীব—সি-উইড, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটনের পরিবেশগত গুরুত্ব, অক্সিজেন উৎপাদনে তাদের ভূমিকা, সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলে অবদান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকারিতা এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবগত হন। একই সঙ্গে তাঁরা ROREC-এর গবেষণা, শিক্ষা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সমুদ্রসম্পর্কিত জ্ঞান ও পরিবেশ সচেতন করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে অভিহিত করেন।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ তাঁদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে নীল অর্থনীতি, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ে সেমিনার, বিজ্ঞান ক্লাব কার্যক্রম, শিক্ষা সফর, গবেষণাভিত্তিক প্রদর্শনী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে-কলমে সমুদ্রবিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ROREC-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ROREC-এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ROREC-এর ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সমুদ্র গবেষণা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ শিক্ষা ও টেকসই নীল অর্থনীতি বাস্তবায়নে ROREC-এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তাঁরা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান। পরিশেষে ROREC-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত সকল অতিথিকে তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে সম্মাননা ক্রেষ্ট তুলে দেওয়া হয় এবং সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
নীল অর্থনীতির গুরুত্ব ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়
পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে
