পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক ব্যবসায়ীর ফাঁকা বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৫ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার রাতে পেকুয়া পৌরসভার উত্তর মেহেরনামা ঠান্ডারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বদিউল আলম সওদাগর ওই এলাকার মৃত এলহাদাতের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বদিউল আলমের স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় গত শনিবার থেকে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন।
এই সুযোগে সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চোরের দল বাড়ির দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে আলমারি ও মূল্যবান সামগ্রী রাখা স্থান তছনছ করে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৫ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়।
ব্যবসায়ীর ছেলে ফোরকান জানান, মায়ের চিকিৎসার জন্য মা ও স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রামে যেতে হয়েছিল। বাড়িতে কেউ না থাকায় চোরের দল পরিকল্পিতভাবে মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বদিউল আলম সওদাগর বলেন, “পরিবারের চিকিৎসার কারণে আমরা কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামে ছিলাম। রাতে দোকান থেকে ফিরে এসে দেখি বাড়িতে চুরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সঞ্চিত স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে আমাকে কার্যত নিঃস্ব করে দিয়েছে। আমার নতুন পুত্রবধূ ও বিবাহিত মেয়ের স্বর্ণালঙ্কারও বাড়িতে রাখা ছিল। এছাড়া ব্যবসার প্রায় ৫ লাখ টাকা নগদ বাড়িতে সংরক্ষিত ছিল। এর আগেও আমার বাড়ি থেকে একটি গরু ডাকাতদল নিয়ে গিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “পেকুয়ায় অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক। জুয়া ও মাদকের অর্থের জোগান দিতে অনেকেই চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
সাম্প্রতিক সময়ে পেকুয়ায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে পৌরসভার আবদুল হামিদ সিকদারপাড়া এবং টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা এলাকায় পৃথক দুটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করা হয়। এসব ঘটনার পর নতুন করে চুরির এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা রাতের টহল জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় পেকুয়া থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
