পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার প্রস্তাবিত ৯ নম্বর ওয়ার্ড (সদর ইউনিয়নের বর্তমান ৭ নম্বর ওয়ার্ড) আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়ায় গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের হামলায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি হন দুই পরিবারের সদস্যরা। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চালানো এ ডাকাতিতে নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে সৌদি প্রবাসী জমির আলম ও মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) রেজাউল করিমের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বাহাদুর শাহও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ভুক্তভোগী ইউপি সচিব রেজাউল করিম জানান, রাতে মোটরসাইকেল দেখতে বাইরে গেলে পাশের একটি দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলেন। রাত ৩টার দিকে একটি সাদা রঙের হাইয়েস মাইক্রোবাস দ্রুত চলে যেতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর ৩-৪ জন অপরিচিত ব্যক্তি পরিচয় জানতে চেয়ে অস্ত্রের মুখে তাকে এবং আরও দুজনকে একটি ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তাকে জিম্মি করে বাড়িতে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, বাড়িতে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালায়। এ সময় চিৎকার করলে গুলি করার হুমকি দেয় তারা। তার কক্ষ থেকে নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং বড় ভাই সৌদি প্রবাসী জমির আলমের কক্ষ থেকে আরও আড়াই লাখ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। পরে অস্ত্র উঁচিয়ে হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সোলতানা কাজল বলেন, ডাকাতরা সবাইকে একটি কক্ষে জিম্মি করে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তারা নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালালেও বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকা স্বজনরা কিছুই টের পাননি। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর চিৎকার শুনে তারা নিচে নেমে আসেন।
তিনি আরও বলেন, পেকুয়ায় ধারাবাহিক সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে রয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি দ্রুত ডাকাতচক্রকে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সৌদি প্রবাসী জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার গলার চেইন ও কানের দুল খুলে নেওয়া হয়। পরে আলমারির তালা ভেঙে ড্রয়ারে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে ডাকাতরা।
স্থানীয় বাসিন্দা তামিম হোছাইন বলেন, এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর আগেও পাশের একটি বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে ছয়টি গরু নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি ডাকাতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বাহাদুর শাহ বলেন, এ ধরনের সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
