পেকুয়া প্রতিনিধি;
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের এক স্কুলছাত্র গত ১৯ জুলাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। ঘটনার ছয় দিন পার হলেও তার কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম মোহাম্মদ মিজান (১৪)। তিনি বারবাকিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভারুয়াখালী এলাকার বাসিন্দা মো. ইউসুফের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৯ জুলাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মিজান আর বাড়ি ফেরেনি। এরপর আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা মো. ইউসুফ বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বারবাকিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভারুয়াখালী এলাকার রমিজ উদ্দিনের ছেলে লোকমান, তার স্ত্রী নাজমা বেগম এবং জয়নাল আবেদীনের ছেলে হুমাইন কবির জনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা একটি মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত। পরিবারের সন্দেহ, মিজানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তাদের আশঙ্কা, মিজানকে মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়ে থাকতে পারে।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া টেকনাফ থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
নিখোঁজ মিজানের বড় ভাই, প্রবাসী মিরাজ বলেন,
“লোকমান, নাজমা ও হুমাইন সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে আমাদের সন্দেহ। আমরা আশঙ্কা করছি, তারা আমার স্কুলপড়ুয়া ভাইকে মালয়েশিয়ায় পাচার করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি। আমার ভাইকে দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
ছয় দিন ধরে ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন মিজানের স্বজনরা। তারা দ্রুত মিজানকে জীবিত উদ্ধার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একজন স্কুলশিক্ষার্থীর এভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং শিক্ষার্থীকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
