সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আলীকদম;

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম সাকহ্লান কারবারীপাড়ায় ম্রো সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি বিদ্যালয় ভেঙে পড়ার পর সেটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাকহ্লান কারবারীপাড়ায় ২০২৩ সালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সহায়তায় একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়টিতে ৩৫ জন ম্রো শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠগ্রহণ করত। তবে বাঁশ ও স্থানীয় উপকরণ দিয়ে নির্মিত ভবনটি সময়ের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণ ও অতিবৃষ্টিতে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়।

বিদ্যালয়টি ধসে পড়ার পর পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্গম এলাকার ৩৫ জন ম্রো শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। পরে বিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থার ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদ আব্দুল্লাহ স্থানীয় শিক্ষকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টেও বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

এদিকে বিষয়টি জানার পর কলেজ শিক্ষক নুরুছাফা ভূঁইয়া বাবু, সাংবাদিক জয়দেব, সাংবাদিক সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ছাত্রপ্রতিনিধি মো. আরাফাত এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সদস্য শেখ সেলিমসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, আগের বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকায় নতুন ভবনটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাহাড়ি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যালয়টির নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হবে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিআর কর্মসূচির আওতায় ৮ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলের অব্যবহৃত অর্থ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ৩৪ মিলিমিটার রঙিন টেউটিনের ১০ বান্ডেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিদ্যালয়ের জন্য বেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার, ব্ল্যাকবোর্ডসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্যও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, “বিদ্যালয়টির পুনর্নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি পাহাড়ি স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মাণ করা হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা রাখার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।”

সংশ্লিষ্টদের আশা, দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে উন্নত ও নিরাপদ পরিবেশে আবারও পাঠদান শুরু হবে। এতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ম্রো শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় হবে।