জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ::
দুর্নীতি মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ জাফর আহমদ কারাগারে গেছেন। চেয়ারম্যান জাফরকে সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৮ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
২২জুলাই বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো: মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়। এ মামলার বিচার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার আওতায় সম্পন্ন হয়। এর আগে, চলতি বছরের ৫ মে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত জাফর আহমদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, আদালত সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাফর আহমদকে দোষী সাব্যস্ত করে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৮ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় জাফর আহমদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে সেজ ছেলে ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজান মিয়া জানিয়েছেন, আমার বাবা নির্দোষ। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গ্যাটাকলে তাঁকে দুর্নীতি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপীল করবেন জানিয়ে তিনি আশা করেন, শীঘ্রই তাঁর বাবা জাফর চেয়ারম্যান আপীলের মাধ্যমে জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন।