সিবিএন ডেস্ক;

রাখাইন সম্প্রদায়ের তরুণী নীলা ওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়নে (Fully Funded) পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগ অর্জন করেছেন তিনি।

নীলা ওয়ান জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের Clemson University-তে Teaching and Learning এবং Indiana University Bloomington-এ Curriculum and Instruction বিষয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি স্কলারশিপ পেয়েছেন। এছাড়া Kent State University-তেও Curriculum and Instruction বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ লাভ করেছেন।

নিজের এই অর্জনের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে নীলা ওয়ান বলেন, “আজ আমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।”

তিনি জানান, তাঁর এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া নীলা ওয়ানের শিক্ষাজীবনে সুযোগ-সুবিধা ছিল সীমিত। অনার্সে পালি বিষয়ে পড়াশোনা করার সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই তাঁকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। পাশাপাশি বৈষম্যের শিকার হওয়ার পাশাপাশি নারী হওয়ার কারণে নানা সীমাবদ্ধতার কথাও তাঁকে শুনতে হয়েছে।

তবে এসব বাধা তাঁকে থামাতে পারেনি উল্লেখ করে নীলা ওয়ান বলেন, “আমি সেই কথাগুলোকে আমার এগিয়ে যাওয়ার শক্তিতে পরিণত করেছি।”

রাখাইন সম্প্রদায় থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পাওয়াকে নিজের জন্য গর্বের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর এই অর্জন অন্যদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে এবং স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

নিজের সাফল্যের পেছনে স্বামী নি জ রাখাইন-এর অবদানের কথাও উল্লেখ করেন নীলা ওয়ান। তিনি বলেন, “আমার স্বামীর অটুট সমর্থন ছাড়া এই পথচলা কখনোই সম্ভব হতো না। তিনি সবসময় আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন, আমাকে সাহস দিয়েছেন এবং প্রতিটি কঠিন সময়ে আমার পাশে থেকেছেন।”

এছাড়া পরিবার, শিক্ষক, পরামর্শদাতা, বন্ধু এবং দীর্ঘ পথচলায় যারা তাঁকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

নীলা ওয়ান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আমি একজন যোদ্ধা। জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আমাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় ও আশাকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করতে শিখিয়েছে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি তাঁর যাত্রার কেবল শুরু। সামনের দিনগুলোতে নিজের অভিজ্ঞতা, শেখা এবং পথচলার গল্প অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।

সবশেষে তিনি বলেন, “কখনোই অন্য কাউকে আপনার সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে দেবেন না। বড় স্বপ্ন দেখুন, কঠোর পরিশ্রম করুন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আমি যদি পারি, আপনিও পারবেন।”

জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা কামনা করেছেন রাখাইন সম্প্রদায়ের এই তরুণী।