আজিজুর রহমান রাজু:

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব গজালিয়া এলাকায় ভয়াবহ ও ন্যক্কারজনক এক ঘটনায় কৃষকের স্বপ্ন-পরিশ্রম এক রাতেই ধুলিসাৎ হয়ে গেছে। দুর্বৃত্তদের হামলায় কৃষক ছৈয়দুল করিমের ৩০০টিরও বেশি পেঁপে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে তার আনুমানিক ৫ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ছৈয়দ আলমের ছেলে কৃষক ছৈয়দুল করিম দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সীমিত সঞ্চয় দিয়ে নিজের পৈতৃক জমিতে একটি পেঁপে বাগান গড়ে তোলেন। প্রায় লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করে তিনি ৩০০টিরও বেশি চারা রোপণ করেন। ধীরে ধীরে গাছগুলো বড় হয়ে ফলন দেওয়ার উপযুক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই ফসল বিক্রি করে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

কিন্তু সেই স্বপ্নে হানা দেয় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের রাতেই বাগানে ঢুকে তারা নির্মমভাবে সব গাছ কেটে তছনছ করে ফেলে। সকালে বাগানে গিয়ে কৃষক ছৈয়দুল করিম ও তার পরিবার সব গাছ কাটা অবস্থায় দেখে হতবাক ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এটিকে কৃষকের জীবিকা ও পরিশ্রমের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ছৈয়দুল করিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে তারা। বছরের পর বছর পরিশ্রম করে গাছগুলো বড় করেছিলাম। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক ঘটনা। আমরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনেছি এবং কৃষকের পাশে আছি।”

ইসলামাবাদ ৯নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি জুবায়েদ উল্লাহ জুয়েল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের বর্বরোচিত কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু হেনা বলেন, “একজন কৃষকের বছরের পর বছরের পরিশ্রম এভাবে ধ্বংস করে দেওয়া চরম অন্যায়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং কৃষক পরিবারকে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।”

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু তদন্ত নয়—ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে রাষ্ট্রীয় বা স্থানীয়ভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে পুনরায় দাঁড়াতে সাহায্য করতে হবে, যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।