স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে মানবিক স্বাস্থ্যসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

পেকুয়ায় বিনামূল্যে ছানি অপারেশন শেষে ৪৩ রোগীকে ফুলেল সংবর্ধনা

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৫৬

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম এখন আশার আলো হয়ে উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশন শেষে ফিরে আসা ৪৩ জন চক্ষু রোগীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে। এ মানবিক আয়োজন শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, বরং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইভিশন সেন্টারের তত্ত্বাবধানে রোগীদের প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা, ছানি শনাক্তকরণ এবং অপারেশনের জন্য উপযুক্ত রোগী নির্বাচন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১২তম দফায় গত ২৮ এপ্রিল পেকুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত ৪৬ জন রোগীকে চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লায়ন্স ক্লাব অব চট্টগ্রাম পরিচালিত দাতব্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব রোগীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে। তিন দিনব্যাপী এই চিকিৎসা কার্যক্রমে রোগীদের থাকা, খাওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, সার্জারি এবং পরবর্তী চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয়। সফল অস্ত্রোপচার শেষে ৩০ এপ্রিল ৪৩ জন রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনায় পেকুয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। ফিরে আসার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনার মাধ্যমে বরণ করা হয়।

চিকিৎসা সেবা পাওয়া রোগী ও স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে তারা ছানি অপারেশন করাতে পারেননি। অনেকেই দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে ছিলেন। বিনামূল্যে অপারেশনের সুযোগ পেয়ে তারা নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। স্থানীয়ভাবে এমন কার্যক্রম চলমান থাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের ৪র্থ তলার ৪০৪ নম্বর কক্ষে অবস্থিত চক্ষু বিভাগে নিয়মিত চোখের রোগীদের চিকিৎসা, পরামর্শ ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজেই এ সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ১২ দফায় প্রায় দুই শতাধিক রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন সম্পন্ন করেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ যেন অন্ধত্বের শিকার না হন। পেকুয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “চোখের যেকোনো সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবেন। বিশেষ করে যারা ছানি অপারেশনের খরচ বহন করতে পারছেন না, তাদের জন্য আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করছি।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহল এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা মনে করছেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টা সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই উদ্যোগ এখন উপকূলীয় জনপদের জন্য এক উজ্জ্বল উদাহরণ। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মানবিক সহমর্মিতার এমন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।