সিবিএন ডেস্ক;
কক্সবাজারে হাম-রুবেলার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় জেলার নয় উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) মো. শামীম আল ইমরান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম কবির। এ সময় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল, ইউনিসেফ প্রতিনিধি ডা. মঈদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ৬২৩ জন শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১১২ জন শিশু, এর মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রয়েছে ৮১ জন। মৃতদের মধ্যে মহেশখালী, রামু ও সদর উপজেলায় দুইজন করে এবং কুতুবদিয়ায় একজন রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০ জন শিশুকে এ টিকার আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে স্থানীয় শিশু ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪২ জন এবং রোহিঙ্গা শিশু ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৮ জন।
কর্মসূচির আওতায় ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ১১ কর্মদিবসে জেলার ৯টি উপজেলায় ১ হাজার ৭৮২টি কেন্দ্রে স্থানীয় শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২৬ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত ৮ কর্মদিবসে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত শিশুদের টিকাদান করা হবে।
এর আগে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত রামু ও মহেশখালী উপজেলায় প্রথম ধাপে টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে জরুরি এই কর্মসূচির আওতায় জেলায় রোহিঙ্গাসহ মোট ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫০ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে জেলা সদরসহ সব উপজেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান।
