পেকুয়া প্রতিনিধি:
সারা দেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় শিশুদের হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলার নন্দীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
উদ্বোধনের প্রথম দিনেই উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১৯টি টিকাদান কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ৩ হাজার ৫৫৭ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি টিকাদান কার্যক্রমের প্রতি অভিভাবকদের উচ্চমাত্রার সচেতনতা ও অংশগ্রহণের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক শরীফ। তিনি বলেন, “হাম-রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সরকার ঘোষিত এই টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিকটস্থ কেন্দ্রে সন্তানদের নিয়ে এসে টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) সরওয়ার জামাল, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক বেলাল উদ্দিন, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম, স্বাস্থ্য সহকারী মিনহাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট টিকাদান কর্মীরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও টিকাদান কর্মীদের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদভাবে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে আগে থেকেই মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
এছাড়া টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ, ঠান্ডা শৃঙ্খল (কোল্ড চেইন) বজায় রাখা এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাম ও রুবেলা উভয়ই ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। হাম শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং কখনো কখনো মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, গর্ভবতী নারীরা রুবেলায় আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুর মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই দুই রোগ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ পদ্ধতি।
