শুক্রগ্রহের বায়ুমণ্ডলে যদি কখনো প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়, তবে তার উৎস হতে পারে পৃথিবী এমন এক সম্ভাবনার কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা। ‘প্যানস্পার্মিয়া’ (Panspermia) নামে পরিচিত এই তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাকাশে ভেসে বেড়ানো অণুজীব এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সম্প্রতি লুনার এন্ড প্লানেটারি কনফারেন্স-২০২৬-এ উপস্থাপিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর ওপরিভাগের বায়ুমণ্ডল থেকে অণুজীবসমূহ গ্রহাণুর ধাক্কায় মহাকাশে ছিটকে যেতে পারে অথবা কাছ দিয়ে যাওয়া গ্রহাণুর সঙ্গে মিলে অন্য গ্রহে পৌঁছাতে পারে। এভাবে অণুজীব শুক্রগ্রহের অপেক্ষাকৃত অনুকূল বায়ুমন্ডলে গিয়ে টিকে থাকতে পারে।

গবেষণায় ধারণা দেওয়া হয়েছে, প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন বছর আগে সংঘটিত মহাজাগতিক সংঘর্ষে পৃথিবী থেকে বিপুল পরিমাণ পদার্থ মহাকাশে নিক্ষিপ্ত হয়। এতে করে প্রতি এক বিলিয়ন বছরে প্রায় এক বিলিয়ন অণুজীব শুক্রগ্রহে পৌঁছাতে পারে।

কেন শুক্রগ্রহের বায়ুমন্ডল?

শুক্রগ্রহের পৃষ্ঠভাগ অত্যন্ত ভয়াবহ। তাপমাত্রা এত বেশি যে সীসাও গলে যেতে পারে। তবে পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার ওপরে বায়ুমণ্ডলের একটি স্তরে তুলনামূলক সহনীয় তাপমাত্রা ও চাপ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই স্তরটি অণুজীব সম্ভাব্য আবাস হতে পারে

এছাড়া মেঘস্তরে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা, যা অণুজীবের উপস্থিতির ইঙ্গিত হতে পারে, অজানা অতিবেগুনি (UV) শোষণ বৈশিষ্ট্য, যা জীবাণুর কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এবং পৃষ্ঠের কঠিন পরিবেশের কারণে বেঁচে থাকা জীবনের সম্ভাবনা বায়ুমণ্ডলেই বেশি।

পৃথিবী থেকে শুক্রগ্রহে যাত্রা

পৃথিবীতে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে শিলা ও অণুজীব মহাকাশে ছিটকে যেতে পারে। এসব বস্তু অন্য গ্রহে গিয়ে পড়লে সেখানে জীবনের বীজ বপন হতে পারে।

মডেল অনুযায়ী, প্রতি এক বিলিয়ন বছরে প্রায় এক বিলিয়ন অণুজীব শুক্রগ্রহে পৌঁছাতে পারে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর প্রায় ১০০টি জীবকোষ শুক্রগ্রহের মেঘে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে এখনো শুক্রগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত নয়। যদি কোনো জীব সেখানে থাকে, তবে তাকে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার মতো শক্তিশালী হতে হবে।

সূত্র: এনডিটিভি