নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একাধিক মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক ঠিকাদারের স্ত্রী। আবেদনে তিনি তার স্বামীকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আবেদনকারী নুসরাত ইয়াসমিন কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, তার স্বামী মোহাম্মদ শাহাজাহান দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী চায়না রোড সংলগ্ন একটি বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ পান তিনি। তার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আরশাদ এন্টারপ্রাইজ’ ওই প্রকল্পের কাজ গ্রহণ করে।

লিখিত আবেদনে নুসরাত ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, একই প্রকল্পের কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন স্থানীয় ঠিকাদার মোহাম্মদ সেলিম। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নকারী চীনা কোম্পানি তাকে কাজ না দিয়ে শাহাজাহানের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেন সেলিম। এর জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে টেকনাফ মডেল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৭, ৮, ১০ ও ১৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার জি.আর. নম্বর ৮৬৬/২৫ এবং থানার মামলা নম্বর ৯৭। মামলার বাদী করা হয় মোহাম্মদ সেলিমের স্ত্রী কামরুননেছা রুমিকে। সেখানে ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে টেকনাফের শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন বাহারছড়া পাহাড় এলাকায়। নুসরাত ইয়াসমিনের দাবি, তার স্বামী কখনো ওই এলাকায় যাননি এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ ছাড়া কক্সবাজার সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় আরও একটি মামলায় তার স্বামীকে আসামি করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলার জি.আর. নম্বর ৭২০/২০২৫ এবং থানার মামলা নম্বর ৩৮। এতে তাকে আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আবেদনকারী। আবেদনে নুসরাত ইয়াসমিন বলেন, তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সমর্থক। তিনি কখনো মানব পাচার বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বিষয়টি এলাকায় তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মাধ্যমে তার স্বামীকে আইনগতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে দাবি করে নুসরাত ইয়াসমিন ন্যায়বিচারের স্বার্থে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।