নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের চকরিয়া সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালীতে লবণ গুদিতে মনপ্রতি ১ টাকার পরিবর্তে জোরপূর্বক ৩ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়রা জানান লবণ গুদি লীজের নামে কোরালখালী পূর্ব পাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমের পুত্র নুরুল আজম লবণচাষীদের কাছথেকে জোরপূর্বক মণপ্রতি ৩ টাকা আদায় করছেন।যা পূর্বে নেওয়া হতো ১ টাকা। ইজারাদারের পক্ষে ৮,৯জন ব্যক্তি এ টাকা আদায় করছেন।
একদিকে লবণ চাষীরা লবণের ন্যায্য দাম নিয়ে চিন্তিত তার উপর যোগ হয়েছে অতিরিক্ত লবনের টেক্স আদায়।সবমিলিয়ে ক্ষতির মূখে এসব লবণ চাষীরা।
সুত্রে জানাগেছে-কোরালখালীর আওয়াতাধীন এলাকায় লবণের মাঠ রয়েছে প্রায় ১৫০০ হাজার একর এলাকাজুড়ে লবণ চাষ হয়। মণপ্রতি লবণ থেকে ১টাকা নিলেও বছরে ৮ লাখ টাকা টেক্স আসে।জোরপূর্বক মণপ্রতি ৩টাকা করে টেক্স দিলে বছরে আসে ২৪লাখ টাকা।
অভিযোগ আছে-অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও চকরিয়ার বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সাথে আতাঁত করে নুরুল আজম উক্ত লবণ গুদি নিজের নামে লীজ নিয়েছেন।নামে মাত্র সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের একাউন্টে ৫৮হাজার টাকা জমা করেছেন।
কোরালখালীর লবণ চাষীরা বলেন-লীজ কারী নুরুল আজমের লোকজন গুদিতে জোরপূর্বক প্রতিমণ লবণ থেকে ৩টাকা করে আদায় করছে।অথচ বিগত আওয়ামীলীগের সময়ে টেক্স নিতো ১ টাকা।এখন নেওয়া হচ্ছে ৩ টাকা।
বর্তমানে ২০০ থেকে ২১০ টাকা একদিকে লবণের নায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় অন্যদিকে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত টেক্স আদায়। তাঁদের ভাষ্য, প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ২১০ টাকার বেশি। এর সঙ্গে জমির ইজারা, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ রয়েছে।তারা অতিরিক্ত টেক্স বন্ধ ও পূর্বের নির্ধারিত ১টাকা নেওয়ার দাবী করেন।
এছাড়াও অভিযোগ আছে সাহারবিল ইউনিয়নের আওতাধীন এগারো একর লবণ গুদি,চিলখালী লবণ গুদি ও দুইনাম্বার হোল্টার ও ৬১ প্লটের লবণ গুদিতেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে লীজ কারী নুরুল আজিমের কাছথেকে জানতে চাইলে তিনি উক্ত লবণগুদীর লীজকারী নয় বলে দাবী করেন।তবে কাগজ কলম বলছে তিনিই লীজকারী।যার স্মারক নং-২০২৫ -৮৯ তাং-৩০/১১/২০২৫
সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হাকিম সোনামিয়া বলেন, কোরালখালী লবণ গুদি যথাযথ নিময় মেনে দেওয়া হয়নি।রাজনৈতিক প্রভাবকাটিয়ে নুরুল আজম এই লবণ গুদি নামে মাত্র টাকা জমা করে ইজারা নিয়েছেন। তৎকালীন ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক থাকাকালীন তিনি এই লবণ গুদি ইজারা দিয়েছেন।এমনকি বিষয়টি তাকেও অবগত করা হয়নি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানায়, সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উক্ত লবণ গুদি ইজারা দেওয়া হয়েছে। পূর্বের নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেওয়ার সুজুগ নেই।লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রাধান্য দেওয়া হবে।
