আবু মোরশেদ চৌধুরী:
২০২৬ সাল,কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। আগামী তিন মাস হতে পারে দেশের অন্যতম প্রধান এই পর্যটনকেন্দ্রের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার এক সুবর্ণ সুযোগ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধনী কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী বিচ কার্নিভাল ও মেলার আয়োজন এবং সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা।সব মিলিয়ে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে শুধু পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর দিলেই চলবে না। কক্সবাজারকে একটি আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব, সেবাবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই হতে হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রশ্ন হলো, সম্ভাবনার এই সময়কে কাজে লাগানোর জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত?
পর্যটক বাড়বে, বাড়াতে হবে সেবার মানও।
পর্যটকদের সম্ভাব্য বাড়তি চাপ সামাল দিতে পরিবহন, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যুর অপারেটর, পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। পর্যটকেরা যেন হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া, খাবারের অস্বাভাবিক মূল্য কিংবা নিম্নমানের সেবার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে এখন থেকেই।
অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পর্যটন মৌসুমে কোনো কোনো হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্য ও মান নিয়ে অসন্তোষ এবং পরিবহন খাতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা শুধু একজন পর্যটকের ভ্রমণকে তিক্ত করে না,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কক্সবাজারের পর্যটন ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মনে রাখতে হবে, পর্যটকের কাছে একটি গন্তব্যের পরিচিতি তৈরি হয় শুধু তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে নয়, বরং সেখানে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা, মানুষের আতিথেয়তা, সেবার মান, নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করেও। তাই কক্সবাজারের সৌন্দর্যের পাশাপাশি সেবার মান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে প্রয়োজন সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা। সম্ভাবনাময় এই তিন মাসকে সফল করতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের সমন্বয়ে একটি সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে সমন্বিত প্রস্তুতি ও কার্যকর সমন্বয়। প্রথমত :হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক, ট্যুর অপারেটর, পর্যটন ব্যবসায়ী সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পৌরসভা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত একটি সমন্বয় সভা করা প্রয়োজন। সভায় দায়িত্ব বণ্টন, প্রস্তুতির সময়সীমা এবং কার্যক্রম তদারকির পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।
দ্বিতীয়তঃ পর্যটকদের জন্য ওয়ান-স্টপ সহায়তা কেন্দ্রস্থাপন, পর্যটকদের তথ্য সরবরাহ, আবাসন ও পরিবহনসংক্রান্ত সহায়তা, জরুরি যোগাযোগ এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি হেল্পলাইন ও ডিজিটাল তথ্যসেবার ব্যবস্থা থাকলে পর্যটকেরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাবেন।
তৃতীয়ত : বিশেষ মনিটরিং ও অভিযোগ নিষ্পত্তি সেল। আগামী তিন মাসের জন্য একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে। এর আওতায় হোটেল ও রেস্তোরাঁর মূল্যতালিকা, খাবারের মান, পরিবহন ভাড়া, পর্যটকদের সঙ্গে আচরণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। অভিযোগ গ্রহণ, দ্রুত যাচাই এবং কার্যকর নিষ্পত্তির পাশাপাশি অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
চতুর্থ : আকর্ষণীয় ও স্বচ্ছ পর্যটন প্যাকেজ: হোটেল, ট্যুর অপারেটর ও পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে সাশ্রয়ী, মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করা যেতে পারে। বিচ কার্নিভাল, স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও দর্শনীয় স্থানকে কেন্দ্র করে এসব প্যাকেজ সাজানো সম্ভব। সেন্টমার্টিন ভ্রমণ অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা, পরিবেশগত বিধিনিষেধ এবং অনুমোদিত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
পঞ্চম :নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ: সমুদ্রসৈকতের পরিচ্ছন্নতা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ, সেবাদানকারীদের দায়িত্বশীলতা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।ষষ্ঠ :বিমানবন্দর থেকে প্রধান সড়ক: প্রথম অভিজ্ঞতাই হোক ইতিবাচক কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের জন্য বিমানবন্দর থেকে শহর ও প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের কার্যক্রম ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে বিমানবন্দর থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজার পৌরসভার দায়িত্ব ও ভূমিকা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সড়কের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ, ফুটপাত ও সড়কের শৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। যানজটপ্রবণ এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মাধ্যমে পর্যটকদের চলাচল ও তথ্য সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব। পর্যটকেরা বিমানবন্দর থেকে শহরে প্রবেশের সময়ই যেন পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও আতিথেয়তার ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সেন্টমার্টিন: পর্যটনের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষার অঙ্গীকার কক্সবাজারের পর্যটন পরিকল্পনায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা না করে পর্যটন সম্প্রসারণের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে না।এ জন্য সেন্টমার্টিনে যাতায়াতকারী জাহাজ কর্তৃপক্ষ, ট্যুর অপারেটর এবং দ্বীপের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমন্বিত বৈঠক করা জরুরি। দ্বীপে পর্যটক ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের ক্ষতি কমানোর বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।বিশেষ করে জাহাজে ওঠানামার সময়, সমুদ্রযাত্রায় এবং দ্বীপে অবস্থানকালে পর্যটকেরা যেন যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলেন, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও ট্যুর অপারেটরদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশগত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে পর্যটন ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে।আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত,প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়, বরংস্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ে প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রেখেই পর্যটনের বিকাশ ঘটানো। বিচ কার্নিভাল হোক কক্সবাজারের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যম। তিন মাসব্যাপী বিচ কার্নিভাল ও মেলা শুধু বিনোদনের আয়োজন হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে কক্সবাজারের পর্যটন ব্র্যান্ডিংয়ের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার, হস্তশিল্প, সংগীত, সৃজনশীল উদ্যোগ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে এ আয়োজনের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নিরাপদ ভ্রমণ, স্থানীয় আতিথেয়তা এবং মানসম্মত সেবার বার্তা পৌঁছে দিতে সমন্বিত প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা, পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রচারণার সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সামঞ্জস্য থাকতে হবে। আমরা যদি পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে প্রচারণার মাধ্যমে তৈরি হওয়া প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন হবে। পর্যটন মানেই স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ পর্যটনশিল্প শুধু হোটেল বা রেস্তোরাঁর ব্যবসা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফটোগ্রাফার, ট্যুর গাইড, হস্তশিল্প উদ্যোক্তা, স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবীসহ অসংখ্য মানুষের জীবিকা।পর্যটকদের সন্তুষ্টি বাড়লে স্থানীয় পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়বে, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তাই পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনায় স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পর্যটন থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সুফল যেন বৃহত্তর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।তাই এখনই সময় সম্মিলিত উদ্যোগের আগামী তিন মাসকে আমরা কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে কাজে লাগাতে পারি। তবে এর জন্য প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা, প্রশাসনের কার্যকর সমন্বয়, ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীলতা, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নির্ধারণ, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং পর্যটকদের মতামত সংগ্রহের ব্যবস্থা করা গেলে এই উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে পর্যটকদের তথ্য সহায়তা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ জোরদার করা যেতে পারে।দিন শেষে মনে রাখতে হবে, পর্যটক আমাদের অতিথি, আর তাঁদের সন্তুষ্টিই আমাদের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। পর্যটকদের আস্থা, সন্তুষ্টি ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ওপরই নির্ভর করবে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের টেকসই ভবিষ্যৎ।
আসুন, সম্ভাবনার এই সুবর্ণ সময়কে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারকে শুধু দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং একটি সুপরিচালিত, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব, সেবাবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করি। এখনই সময়,পরিকল্পনার, প্রস্তুতির এবং কক্সবাজারকে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করার।
