নিজস্ব প্রতিবেদক:
মসজিদ-মাদ্রাসায় ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার নামে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন নামক এক ব্যক্তি। তার সুকৌশলী প্রতারণার সহযোগী ছিলেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস। স্বামী-স্ত্রীর এই প্রতারণার জাল বিস্তৃত হয়ে কক্সবাজার থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম পৌঁছে যায়। বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। ভবন নির্মাণ তো দূরের কথা, মাসের পর মাস তাদের হদিস নাই। মুঠোফোনও প্রায় বন্ধ থাকে। বাড়িঘর তালাবদ্ধ। অবশেষে অনন্য উপায় হয়ে থানা ও আদালতে আশ্রয় নেন ভুক্তভোগীরা।
মো. ওসমান নামক একজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবী এনজিও সংস্থা ইউনিক ইস্টার্ণ লিমিটেডের প্রতিনিধি পবিচয়ে তার গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া দক্ষিণ ছদাহা এলাকায় পরিচালিত “দারুল কোরআন মাদরাসা, শিশুতলা” প্ৰতিষ্ঠানটি ৫ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট ৩ তলা ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাসে ‘সয়েল টেস্টসহ আনুষাঙ্গিক খরচ’ বাবদ ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিপরীতে একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু অনেকদিন পার হলেও চুক্তি মতে কাজ শুরু করেন নি। যোগাযোগ বন্ধ। কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে আব্দুল্লাহ আল মামুন এর প্রদত্ত চেক নিয়ে ব্যাংকে যান ভুক্তভোগী মো. ওসমান। দেখা যায়, নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে কোন টাকা নাই। শেষমেষ ওই চেকের ‘ডিজঅনার স্লিপ’ নিয়ে মামলা করেন।
প্রতারণার শিকার মো. ওসমান শহরের পান বাজার সড়কস্ত ফিরোজা শপিং এর এঞ্জেল কালেকশনের স্বত্বাধিকারী।
আর প্রতারক আব্দুল্লাহ আল মামুন রামু রাজারকুল পশ্চিম সিকদার পাড়ার কামাল উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে, চিহ্নিত প্রতারক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ধরতে আদালত থেকে জারি করা হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা।
সেই পরোয়ানামূলে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার হন আব্দুল্লাহ আল মামুন। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রামু থানা পুলিশের মাধ্যমে ৯ অক্টোবর তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ঢাকার আশুলিয়া থেকে গ্রেফতারের পর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রামু থানায় আনা হয়।

প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা জানিয়েছে, আব্দুল্লাহ আল মামুন ইউনিক ইস্টার্ন লিমিটেড নামক একটি এনজিওর প্রতিনিধি পরিচয়ে কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
এই প্রতারণার ফাঁদের আরেক কারিগর মামুনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস। স্বামীর সহযোগী হিসেবে তিনিও বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। বিশ্বাস জন্মানোর জন্য দিয়েছেন চেক। যে চেকের বিপরীতে ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায় কোন টাকা নাই। তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। আদালত থেকে জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। সেই পরোয়ানামূলে প্রতারক স্বামী-স্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জান্নাতুল ফেরদৌসের ঠিকানা এখন কারাগার।
ধর্মের লেবাস পরিহিত এই প্রতারকচক্রের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেফতারে আন্তরিক ভূমিকা রাখায় রামু থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
একই সঙ্গে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ। প্রতারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ১৬ টি মামলার খবর পাওয়া গেছে। আরো অনেক ভুক্তভোগী ব্যক্তি মামলার প্রস্তুত নিচ্ছে বলে জানা গেছে।