এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :
জনস্বাস্থ্য ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়। এসময় জনস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অননুমোদিত পণ্য বিক্রয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার দায়ে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সোমবার দুপুরের দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ হাসান আল মারুফের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান সূত্রে জানাগেছে, সোমবার দুপুরের দিকে
চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে জনস্বাস্থ্য ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয় অভিযানে নামে। এসময় ভোক্তা অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় জনস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অননুমোদিত পণ্য বিক্রয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার দায়ে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ওই জরিমানা আদায়ও করা হয়।
অভিযানে মগবাজারের আর রহমান বেকারীতে বেকারি পণ্যে ক্ষতিকর অননুমোদিত রং, হাইড্রোজ ও অ্যামোনিয়া ব্যবহার, নষ্ট ও ভাঙা ডিম ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও বিক্রির দায়ে ৫০টাকা জরিমানা, চিরিঙ্গা সাতকানিয়া স্টোর—শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অননুমোদিত শিশু খাদ্যপণ্য বিক্রয় এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, চিরিঙ্গার ফলের দোকান ‘ফল বিতান’—মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, কাঁচাবাজারের শাহ আমানত স্টোর—বিক্রির অনুমোদনবিহীন রোহিঙ্গা পণ্য হিসেবে চিহ্নিত তেল বিক্রির দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, কাঁচাবাজারের আজাদ স্টোর—বিক্রির অনুমোদনবিহীন রোহিঙ্গা পণ্য হিসেবে চিহ্নিত তেল বিক্রির দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও পৌরশহরের কাঁচাবাজারের টিপু স্টোর—বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিক্রয়ের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ‘কেওডাজল’ বিক্রয় এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উক্ত অভিযানে সার্বিকভাবে সহযোগিতায় ছিলেন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম, চকরিয়া পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক হায়দার আলী, চকরিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম।
এদিকে, জনস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন। তিনি চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে পরিচালিত এ ধরনের কার্যক্রমকে স্বাগত জানাই এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ হাসান আল মারুফ।