কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড়স্থ এলাকায় অবস্থিত খালি প্লটে অস্থায়ী দোকান নির্মাণ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এই কোম্পানি থেকে দাবি করা হচ্ছে নির্মাণাধীন অস্থায়ী দোকান বৈধ এবং জমিগুলো আইনগতভাবে সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেডের মালিকানাধীন। তাই অস্থায়ীভাবে দোকানগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। এই নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেডের স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম বলেন, দোকান নির্মাণ করা প্লটটি সরকারের বাতিল প্লটগুলোর আওতাভুক্ত নয়। এই প্লটটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্লট এবং এটি সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেডের সরকারি বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমি।
কর্তৃপক্ষ জানান সংশ্লিষ্ট জমির মূল মালিক ছিল বাংলাদেশ সরকার। পরবর্তীতে সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমিটি সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেডের পক্ষে বন্দোবস্তো দেয়া হয়। ২০০৪ সালের ২৯ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা কালেক্টরের মাধ্যমে ১৯৪২ নম্বর বন্দোবস্তি দলিলের ভিত্তিতে ৪ দশমিক ৫০ একর জমি সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেডকে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে বিএস ৪৬১৩ নম্বর খতিয়ানে নামজারি করা হয় এই প্রতিষ্ঠানের নামে- যা ঝিলংজা মৌজার হোটেল-মোটেল জোনের অন্তর্ভুক্ত বিএস খতিয়ান নম্বর ৬ এবং বিএস দাগ নম্বর ২০০০৩ ও ২০০০৩/১-এর ৪ দশমিক ৫০ একর।
সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেডের প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম বলেন, বন্দোবস্তো প্রাপ্তির পর সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেডের পক্ষ থেকে ওই জমিতে বৈশাখী রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ ও ভোগদখল রাখা হয়।
তিনি বলেন, অদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই প্লটের প্রেক্ষাপটে সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেড সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিসিশনের একটি বেঞ্চে এক রীট পিটিশনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির আদেশে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে রিটকারী পক্ষের স্থাপনা—বিশেষ করে বৈশাখী রেস্টুরেন্ট ও সীমানাপ্রাচীরসহ কোনো স্থাপনা ভেঙে ফেলা যাবে না।
সুপ্রীম কোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ সম্পর্কে অবগত কোনো ব্যক্তি ওই আদেশের পক্ষভুক্ত না হলেও, আদেশের ফলাফলের ওপর প্রভাব পড়লে তাকে আদালতের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৫৩ ডিএলআর (আপিল বিভাগ) ৭০ মামলার সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্বিক প্রসঙ্গে সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেডের প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি যে অস্থায়ী দোকানগুলো নির্মাণ হচ্ছে তাতে আদালতের কোনো বারিত নেই। সে মোতাবেক সম্পূর্ণ নিষ্কন্টক পরিস্থিতিতে অস্থায়ী দোকানগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। সৈকত সুন্দরবন হোটেল লিমিটেডের ক্ষমতাভুক্ত হিসেবে নির্মাণাধীন এসব দোকান কোনোভাবে অবৈধ হতে পারে না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বৈধভাবে দোকানগুলো নির্মান করছি।
এই সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যগুলো আদৌ সত্য নয়। তাই প্রচারিত ও প্রকাশিত উক্ত সংবাদগুলোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
