এম. মনছুর আলম, চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় যুবদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিলভার রঙের নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমানের দিকনির্দেশনায়, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজের তত্ত্বাবধানে এবং চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে চকরিয়া থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওসি মো. আরিফুর রহমান এসব তথ্য জানান।

ওসি জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকা থেকে ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে সাদা/সিলভার রঙের একটি নোহা গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়। পরে খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে আনোয়ার হোসেন ওরফে কাল্লু ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জিসাত মিয়া ওরফে শওকত ড্রাইভার (২৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিলভার রঙের নোহা গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর চট্টমেট্রো-চ-১১-৫৯৬৯।

ওসি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ‘কিলিং মিশনে’ অংশগ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জিসান হত্যা মামলাটি চকরিয়া থানার এফআইআর নং-৪৪, তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৬৪/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ওসি মো. আরিফুর রহমান।