নিজস্ব প্রতিবেদক :
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে ‘রাজনৈতিক পিকনিক’ বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আনিস আলমগীর লেখেন, ছয় দফা দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দল ঢাকা থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম যাচ্ছে। শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা।
লংমার্চের ছয় দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
আনিস আলমগীরের ভাষ্য, প্রথম দুই দাবি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন মাথাব্যথা নেই। তবে বিদ্যুৎ-গ্যাস-সার, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কর্মসূচি হলে দলীয় নেতা-কর্মীদের বাইরে সাধারণ মানুষেরও আগ্রহ তৈরি হতে পারত।
তিনি লিখেছেন, “ফলে আপাতত এটাকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে একটা রাজনৈতিক পিকনিক বলেই মনে হচ্ছে।” তবে শেষ পর্যন্ত এই ‘পিকনিকের’ ফলাফল কী হয়, সেটিই দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লংমার্চের গাড়িবহর নিয়েও ব্যঙ্গ করেছেন আনিস আলমগীর। ঐতিহাসিক লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মাওলানা ভাসানীর ১৯৭৬ সালের ফারাক্কা লংমার্চের সঙ্গে বর্তমান কর্মসূচির তুলনা করেন। তাঁর মন্তব্য, তখনকার লংমার্চ ছিল হাঁটার কষ্টের গণপদযাত্রা; আর এখন নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন গাড়িতে করে যাচ্ছেন—“লংমার্চও আপগ্রেড হয়ে ‘ফোর-হুইল ড্রাইভ’ হয়েছে!”
এদিকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি সরকার উৎখাতের কর্মসূচি নয়, দাবি আদায়ের কর্মসূচি। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও কর্মসূচিটিকে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভী লংমার্চকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করলেও এর মাধ্যমে যেন পরিকল্পিত অচলাবস্থা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে।
আজ বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোটের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
