জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ;

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের বাধার মুখেও কাজ চললেও সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে বর্তমানে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংখালী এলাকায় মৌলভীবাজার-রোজারঘোনা সংযোগ সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে পাহাড়ি মাটি ব্যবহারের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদাময় হয়ে পড়েছে। এতে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ডেল্টা হাসান জেবি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। তবে ঠিকাদার বা তাদের কোনো প্রতিনিধিকে এলাকায় দেখা যায় না। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাতের আঁধারে বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি এনে সড়কে ফেলছেন।

এলজিইডির অধীনে নির্মাণাধীন এ সড়কে বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহারের কারণে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলেন, রাতের বেলায় কারা এসব মাটি ফেলছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩ মিটার প্রস্থ ও ১ হাজার ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি একটি প্যাকেজ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রোজারঘোনা মাদ্রাসা ও মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং এনজিওকর্মী মো. মিশকাত উদ্দিন বলেন, “এই সড়ক দিয়ে রোজারঘোনা ছাড়াও মরিচ্যাঘোনা, পানিরছড়া, মহেশখালিয়াপাড়া ও কম্বনিয়াপাড়াসহ অন্তত পাঁচ-ছয়টি এলাকার মানুষ চলাচল করেন। অথচ সড়ক নির্মাণে বালুর পরিবর্তে সম্পূর্ণ পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে আমরা শঙ্কিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালামসহ এলাকার প্রবীণরা অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলা প্রশাসন যদি যথাযথ তদারকি না করে, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”

স্থানীয় নারী নেত্রী রিনা আক্তার বলেন, “রোজারঘোনার মানুষ উন্নয়ন চায়, তবে নিম্নমানের কাজ মেনে নেবে না। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. আইয়ুবের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী খাইরুল আলমের সঙ্গেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “সড়ক নির্মাণে পাহাড়ি মাটি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, “সরকারের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে লোক পাঠানো হয়েছে। সড়কটি যেন টেকসই ও মানসম্মতভাবে নির্মিত হয়, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”