আব্দুস সালাম,টেকনাফ :
সাগরপথে মালয়েশিয়ায় শীর্ষ মানবপাচারের ‘গডফাদার’ টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া কচ্ছপিয়া বড় ডেইলের বাসিন্দা ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গা ছৈয়দুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার বিকেলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কমুনিয়া এলাকায় অবস্থিত তার দ্বিতীয় বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ছৈয়দুল হক টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ছৈয়দুল হকের বাড়ি থেকে মানবপাচার–সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিপত্র, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মানবপাচার ও হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। টেকনাফের পাশাপাশি রামুতেও তার বাড়ি রয়েছে। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়, হত্যা ও গুমের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
চেয়ারম্যানের দাবি, ছৈয়দুল হকের নেতৃত্বে টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার এলাকা কেন্দ্রিক একাধিক মানবপাচার চক্র গড়ে উঠেছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে তার মাধ্যমে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নৌপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, শারীরিকভাবে পঙ্গু হলেও ছৈয়দুল হকের জীবনযাপন নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তার একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা যায়। তিনি বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা করেন এবং তার বাড়ির ভেতর ও আশপাশে ব্যাপক সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত মানবপাচার বিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার নাম উল্লেখ হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এরপর থেকে তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ছৈয়দুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মানবপাচার মামলা রয়েছে। নামের ভিন্নতার কারণে অন্য থানায় দায়ের হওয়া আরও কিছু মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দেশি-বিদেশি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আটকের পর তাঁকে রামু থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকে টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলসংলগ্ন এলাকাকে ব্যবহার করে একটি সক্রিয় মানবপাচার চক্র দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব চক্রের মাধ্যমে বহু বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ এবং শিশুকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে।
