বিদ্যুৎ সরবরাহ শুক্রবার কিছুটা স্বাভাবিক হবে : নির্বাহী প্রকৌশলী
মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :
গত ৩ দিন যাবৎ বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এ জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। একদিকে, তীব্র তাপদাহ, অন্যদিকে, প্রকট লোডশেডিং এ জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দিনের প্রায় অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকেনা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে আরো ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। একটি ১০ এমভিএ (মেগা ভোল্ট এ্যাম্পিয়ার) সম্পন্ন বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় কক্সবাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহে এ করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সুত্রে জানা গেছে। সুত্র মতে, লোড ম্যানেজমেন্ট করে গত ৩দিন ধরে কক্সবাজারে কোনরকমে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী (বিতরণ) ইঞ্জিনিয়ার কাদের গণি জানিয়েছেন, ১০ এমভিএ সম্পন্ন একটি বড় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার পর কক্সবাজার থেকে জরুরী চাহিদা পাঠানোর প্রেক্ষিতে ২০ এমভিএ অর্থাৎ আগেরটির চেয়ে দ্বিগুণ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বড় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেটি স্থাপনের কাজ বিরতিহীনভাবে চলছে। একটি বড় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার স্থাপন করা দীর্ঘ সময়ের কাজ। সেজন্য কক্সবাজার বিতরণ বিভাগের সকল প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ২০ এমভিএ সম্পন্ন নতুন বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারটি চালু করতে নিয়মানুযায়ী টেস্টিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নতুন ট্রান্সফরমারটি শুক্রবার (৫ জুন) সকালে পরীক্ষামূলকভাবে টেস্টিং করবেন। পরীক্ষামূলকভাবে ট্রান্সফরমারটি টেস্টিং সফল হলে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী (বিতরণ) ইঞ্জিনিয়ার কাদের গণি জানিয়েছেন। সুত্র মতে, লোড ম্যানেজমেন্ট করে গত ৩দিন ধরে কোনরকমে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। লোড ম্যানেজমেন্ট নাকরলে কক্সবাজার বিতরণ বিভাগের প্রায় ৫০% এলাকা গত ৩দিন ব্ল্যাক আউট অর্থাৎ বিদ্যুতহীন থাকতো।
তিনি আরো জানান, কক্সবাজারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে কক্সবাজারে হোটেল মোটেল জোন সহ জেলার সর্বত্র বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কক্সবাজারে এখন ৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু ন্যাশনাল গ্রিড থেকে কক্সবাজারের জন্য বর্তমানে মাত্র ৩৮ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকে ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট।
নির্বাহী প্রকৌশলী (বিতরণ) ইঞ্জিনিয়ার কাদের গণি আরো জানান, কক্সবাজার শহরকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন নগরী বিবেচনা করে কক্সবাজার অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সার্ভে করে আধুনিক জিআইএস সিস্টেম লোড সেন্টার চালু করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে ন্যাশনাল গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কম সরবরাহ পাওয়া, কারিগরি ত্রুটি, ঘূর্ণিঝড়ে সরবরাহ বিপর্যস্থ হওয়া ইত্যাদিতে রেশনিং পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া যাবে।
