এম. মনছুর আলম, চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘মাতামুহুরী উপজেলা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে। চলতি বছরের ৭ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন উপজেলা হিসেবে মাতামুহুরী উপজেলা অনুমোদন পায়। এর মাধ্যমে উপকূলীয় সাত ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে গেছে।
লবণ, চিংড়ি চাষ, মৎস্যসম্পদ এবং চকরিয়ার সুন্দরবনখ্যাত উপকূলীয় বনাঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এ অঞ্চলকে ঘিরে নতুন উপজেলা গঠনের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে মাতামুহুরী উপজেলা গঠন করা হয়েছে।
মাতামুহুরী নদীবেষ্টিত সাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও বদরখালী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন এ উপজেলা। কৃষি, মৎস্য ও লবণ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক দূরত্ব ও যোগাযোগ-সংকটের কারণে এসব এলাকার মানুষকে প্রশাসনিক সেবা পেতে চকরিয়া সদরে যেতে হতো।
স্থানীয়দের মতে, মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবা সহজ হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।
এদিকে, বর্তমান চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ারকে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার প্রথম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ২২ মে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে এক অফিস আদেশে তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন।
অফিস আদেশে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার ২১ মে ২০২৬ তারিখের নির্দেশনা অনুযায়ী কক্সবাজার জেলার নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
গত ২৩ মে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ইউএনও শাহীন দেলোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে মাতামুহুরী উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেন।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১ জুন) সকাল ১১টার দিকে তিনি নবগঠিত উপজেলার প্রশাসনিক ভবন, ভূমি অফিস, থানা ভবন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের স্থান নির্ধারণের লক্ষ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন, ওসি (তদন্ত) নুরে আলম ছিদ্দিকী মাসুদ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়াইবুল ইসলাম সবুজ, অর্থ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, “সাত ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়ন। নিকার সভায় অনুমোদনের মাধ্যমে ৭ মে এটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি এলাকাবাসী কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, “মাতামুহুরী উপজেলা হবে জেলার অন্যতম আধুনিক ও পরিকল্পিত উপজেলা। জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।”
মাতামুহুরী উপজেলার বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা সোয়াইবুল ইসলাম সবুজ বলেন, “উপজেলার প্রশাসনিক অবকাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা আরও সহজলভ্য হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় জনপদের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও নতুন গতি সঞ্চার হবে।”
