এম. মনছুর আলম, চকরিয়া:
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া ও লোহাগাড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ভিক্ষু, মোটরসাইকেল আরোহী ও বাসযাত্রীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দোহাজারী, মালুমঘাট ও চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ পৃথকভাবে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় চট্টগ্রামমুখী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে সেটি ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসে থাকা ৩ জন নিহত হন। গাড়িতে থাকা আরও অন্তত ৫ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ইন্দাসারা ভিক্ষু প্রকাশ উচিমং মগ (৪৪)-এর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্য নিহত দুইজন ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অপরদিকে, চকরিয়ার হারবাং স্টেশন এলাকায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রীবাহী পুরবী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মিজানুর রহমান (৩২) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর কালিয়াইশ এলাকার বাসিন্দা। পেশাগত কারণে একটি ওষুধ কোম্পানির কাজে তিনি যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে চিরিংগা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে, মালুমঘাট স্টেশন এলাকার দক্ষিণ পাশে সকাল ৯টার দিকে একটি যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোহাম্মদ ইউসুফ (৫৫) নামে একজন নিহত এবং অন্তত ৫ জন আহত হন। নিহত ইউসুফ চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়া উদ্দিন একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল আমিন জানান, সকালে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তিনটি পৃথক দুর্ঘটনায় মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন জব্দ করেছে।
