নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার পৌরসভার অধীনস্থ ৩ মার্কেটের ৫০ টি দোকান অতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। পিলার-কলাম ফেটে গেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। রড থেকে পিলার বের হয়ে গেছে। দেওয়ালগুলো হা করে আছে। দৃশ্য দেখে মনে হবে এখনই ভেঙে পড়বে।

জরাজীর্ণ মার্কেটে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। পলেস্তারা ভেঙে মাথায় পড়ে আহত হয়েছে অনেক দোকান কর্মচারী। আতঙ্ক নিয়ে কেনাকাটা করতে আসে ক্রেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পৌরসভার অধীনে পাকিস্তান আমলে তিনটি মার্কেট নির্মিত হয়। তখন থেকে এসব দোকানে ব্যবসা করে আসছে পৌরসভার ভাড়াটিয়া দোকানদাররা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মাঝে মাঝে মার্কেট সংস্কার কিংবা নতুনভাবে নির্মাণ করবে বলে আশ্বস্ত করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জীবন জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি মাথায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ভাড়াটিয়ার।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, তাদের প্রত্যেকটি দোকানদার পৌরসভা নির্ধারিত ভাড়া প্রতিমাসে পরিশোধ করে আসছে। সবার ট্রেড লাইসেন্সসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নবায়ন রয়েছে। এরপরও তারা অবহেলার শিকার।

পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে মার্কেট ভেঙ্গে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় মার্কেট তিনটি দ্রুত সংস্কার কিংবা পুননির্মাণের দাবি ব্যবসায়ীদের।

কক্সবাজার পৌরসভা পুরাতন তরকারি, মাছ ও শুকনো মাছ সেড দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, মার্কেটের বর্তমান চিত্র সম্পর্কে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে বিস্তারিত অবগত করা হয়েছে। বিশেষ করে পৌর প্রশাসককে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের করুন অবস্থা তুলে ধরার পর তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানোর পরেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমানে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফিরোজ আহমদ ওসমানী জানান, পৌর প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাজার পরিদর্শক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বিস্তারি জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছে।