নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহরের বড় বাজারের বিরাজমান নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে নেওয়া হয়েছে নানা কঠোর সিদ্ধান্ত।
২৫ অক্টোবর রাতে অনুষ্ঠিত সভায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের অধিকার রক্ষায় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করে বক্তব্য রাখেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় পৌর কর্তৃপক্ষের কিছু অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথাও জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
বড় বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী একতা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাশেম সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুল, কক্সবাজার দোকান মালিক ফোরামের সভাপতি আবু জাফর ছিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল গফুর, ফেডারেশনের আজীবন সদস্য সাংবাদিক ইমাম খাইর।
তারা বলেন, বাজারের সকল স্তরের ব্যবসায়ীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যায় কোন দাবি মেনে নেওয়া হবে না। ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থহানি হয় এমন কোন সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বড়বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী একতা সমিতির সহ সভাপতি এহেছান উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, সংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রহিম উল্লাহ, সদস্য নুরুল ইসলাম, মাংস ব্যবসায়ী রাজু, নুরুল আলম, পান ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আলম, ছাগল ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম, মুরগি ব্যবসায়ী নাসির, সুপারি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ইব্রাহিম, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রেজাউল করিম, শফিউল আলম।
তারা বলেন, পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন বড় বাজারে যুগযুগ ধরে পৈত্রিকভাবে অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন। বিশেষ করে পান সুপারি, তরি তরকারি, মাছ মাংস, মুরগি, গরু-ছাগল, শুটকি, শাক বিক্রেতাসহ অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন চলার একমাত্র মাধ্যম এই বাজার। পৌরসভার নিয়ম মেনে তারা দাদার আমল থেকে এখানে ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ২০২৩ সালে বহুতল ভবন করার পরিকল্পনার কথা বলে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট সরিয়ে নিতে বলেন তৎকালীন পৌর মেয়র। সেই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, মার্কেট নির্মিত হলে যার দোকান তাকে প্রাপ্য মতে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মার্কেট নির্মাণ শেষ হওয়ার পর দোকান বরাদ্দ পেতে প্রতি বর্গফুটে অস্বাভাবিক টাকা দাবি করা হচ্ছে। যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষে বহন করা মোটেও সম্ভব নয়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষই এই মার্কেট নির্মাণ করছে প্রচার পায়। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হলে তারা জানতে পারে, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই মার্কেট করা হয়েছে। যার কোন রেকর্ডপত্র পৌরসভায় সংরক্ষিত নাই বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, পৌরসভার জায়গায় নির্মিত মার্কেটে দোকান বরাদ্দ পেতে তৃতীয় পক্ষকে কেন টাকা দিতে হবে? ইতোপূর্বে পৌরসভার অন্যান্য দোকানগুলো যেমন মাছের শেড, তরকারির শেড পৌরসভার অর্থায়নে নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, একই নিয়মে এই মার্কেটে দোকান পাওয়ার দাবি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের।
সভায় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারের নানা সমস্যা নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। বর্তমান চিত্র স্পষ্ট করেছেন। দাবির কথাও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরপরে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল পৌরসভার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বাজার পরিদর্শন করেছেন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনেছেন। তিনি বিরাজমান সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
নিয়ম বহির্ভূত হাটবাজারের কারণে বাড়ছে যানজট। নষ্ট হচ্ছে সৌন্দর্য। পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও পর্যটনবান্ধব বাজার গড়ে তোলতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেও যাদেরকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা চলছে তাদের জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বড় বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী একতা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা।
