আবুল কাশেম, রামু:

বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি ধরে রাখতে কক্সবাজারের রামুর বাঁকখালী নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তঃগ্রাম ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বৃহত্তর রামুর অফিসের চর এলাকায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে আটটি দল অংশ নেয়।

‘মারো মারো’ ধ্বনি, বৈঠার ছন্দ আর প্রতিযোগীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে বাঁকখালী নদীর দুই পাড়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ দেখতে নদীর তীরে ভিড় করেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

রামু উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহম্মদ মাহিন চৌধুরী বলেন, “নৌকাবাইচ আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক। আমাদের পূর্বপুরুষেরা নিয়মিত এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। তাঁদের মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন। পূর্বপুরুষদের সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আবারও নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।”

 

রামু সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, “একসময় এ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা হারিয়ে গিয়েছিল। তা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় অফিসের চরবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে কেন্দ্রীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”

 

আয়োজন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কায়েস বলেন, “নৌকাবাইচ আমাদের লোকসংস্কৃতির প্রতীক। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এ উদ্যোগ। আগামী বছর বৃহত্তর অফিসের চরবাসীর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রত্যাশা করছি।”

স্থানীয়রা জানান, নানা কারণে কয়েক বছর ধরে বৃহত্তর রামুর অফিসের চর এলাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন বন্ধ ছিল। পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আবারও এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আনন্দের প্রতীক। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রতিবছর এ আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আগামী বছর থেকে আরও বৃহৎ পরিসরে কেন্দ্রীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এতে রামুর প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দল অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতিও আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রতিযোগিতার ফাইনাল ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।  কৃষক শ্রমিক সমবায় সমিতিকা হারিয়ে  ভাই ভাই খেলোয়াড় একাদশ বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে।