নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নিজের মালিকানাধীন জমিতে কাজ করতে গিয়ে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে কক্সবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) গিয়াস উদ্দিনসহ আটজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মামলাটি দায়ের করেন জামিল সাজ্জাদ চৌধুরী (৪০)। তিনি পেকুয়া সদরের মাদবরপাড়ার নুরুল আজিম চৌধুরীর ছেলে।
তার দায়েরকৃত মামলায় গিয়াস উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করেছেন। মামলায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, জমিতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ এনেছেন।
প্রধান আসামি গিয়াস উদ্দিন পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের নাপ্পাঞ্জাপাড়ার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে। অন্যান্য আসামিরা হলেন, দীপঙ্কর বড়ুয়া, গিয়াস উদ্দিন, রমজান আলী, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ নুর, সোনা মিয়া ও আব্দুল হাকিম।
মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহা. বিল্লাল হোসেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামিল সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, তার ভগ্নিপতি হেনাউল ইসলাম বাবুল শহরের একজন প্রসিদ্ধ হোটেল ব্যবসায়ী ও পেকুয়ার জমিদার পরিবারের সন্তান। ১৯৯৫ সাল থেকে সদর উপজেলার ঝিলংজা ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লারপাড়া এলাকায় দলিলভুক্ত জমির ভোগ দখলিয় মালিক। ও জমিতে তিনি ২২৭৩ খতিয়ান সৃজনপূর্বক কয়েকটি ঘর নির্মাণ করেন। ভগ্নিপতির পক্ষ থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির কেয়ারটেকার হিসাবে ৩২ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে আছেন। সম্প্রতি জমির মালিকের নিকট থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে একটি চক্র।
টাকা না দিলে জমি ভোগদখলে বাধা দেওয়া এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে কক্সবাজার সদর এসি ল্যান্ডের নির্দেশনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সার্ভেয়ার জমিটি পরিমাপ করে সীমানা চিহ্নিত করেন। এতে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমিতে প্রবেশ করেন।
বাদীর অভিযোগ, এ সময় আসামিরা পুনরায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি প্রত্যাখ্যান করলে ঘরবাড়ি ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় গিয়াস উদ্দিন লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আঘাতটি বাম হাতে প্রতিহত করায় সেখানে গুরুতর জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা, লাথি, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আহত বাদী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৫, ৩০৭, ৩৮৫, ৪২৭, ৫০৬, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জমির মালিক হেনাউল ইসলাম বাবুল বলেন, স্বৈরাচারের দোসরদের সাথে হাত মিলিয়ে একটি চিহ্নিত দখলবাজচক্র আমার মালিকানাধীন জমিতে বাধা দিচ্ছে। ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে সাধারণ মানুষকে লেলিয়ে দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছে। আমি একজন জমিদার পরিবারের সন্তান হিসেবে এতে আমার চরম মান ক্ষুন্ন হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, জমির মালিকানা দাবিদারদের অনেকবার সামাজিক বৈঠকে বসতে আহ্বান করেছি। জমি পেয়ে থাকলে ছেড়ে দিব বলেছি। তারা শালিস মীমাংসা না করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ মানববন্ধন করেছে। প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে। আমি এর সঠিক প্রতিকার চাই।
