নিজস্ব প্রতিবেদক;
বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা বাড়ানোর লক্ষ্যে কক্সবাজারে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘কনফ্লিক্ট সেন্সিটিভ রিপোর্টিং ইন ডিসপ্লেসড কনটেক্সট’ শীর্ষক কর্মশালা শেষ হয়েছে। ডয়েচে ভেলে একাডেমির আয়োজনে গত ৪ অক্টোবর শুরু হওয়া এ কর্মশালা বুধবার শেষ হয়। এতে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশ নেন। কর্মশালায় সহযোগিতা করে কক্সবাজার প্রেস ক্লাব।
কর্মশালায় কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশ নেন। পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন মাইনুল ইসলাম খান ও মাফিয়া মুক্তা। প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও হাতে-কলমে অনুশীলনের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের করণীয় তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সংঘাত বা সংকটের সময়ে শব্দচয়ন, সংবাদ উপস্থাপনের ধরন, বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানবিকতা ও সংবেদনশীলতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। কোনো সংবাদ যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে বিদ্বেষ, বিভাজন বা উত্তেজনা বাড়িয়ে না দেয়, সে বিষয়েও সাংবাদিকদের সচেতন করা হয়।
কর্মশালার উদ্বোধনী আয়োজনে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সাংবাদিকতার দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও পেশাগত দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেন।
মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, “একজন সাংবাদিককে আগে একজন ভালো মানুষ হতে হবে। মানবিকতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে সংকটাপন্ন ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি।”
নুরুল ইসলাম হেলালী বলেন, “এ ধরনের কর্মশালা সাংবাদিকদের নতুন কিছু শেখার সুযোগ তৈরি করে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজেদের পেশাগত কাজে প্রয়োগ করতে হবে।”
অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকেরা বলেন, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সংবাদ করার ক্ষেত্রে এ প্রশিক্ষণ তাঁদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও সংবাদ পরিবেশনের সময় প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
