নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন;
আত্মগোপনে থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কক্সবাজার জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের খবর প্রকাশ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত প্যাডে প্রকাশিত কমিটিতে বিভিন্ন পদে মোট ৮৩৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশিত কমিটিতে সাদ্দাম হোসাইনকে সভাপতি, আবু মো. মারুফ আদনানকে সাধারণ সম্পাদক, আনোয়ার হোসেনকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ওয়াসিফ কবিরকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ওয়াসিক আহমদকে প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া মুরাদ মাহমুদ চৌধুরীকে দপ্তর সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় ও সদস্য পদে নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর জেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন। দীর্ঘদিন সাংগঠনিক পদপ্রত্যাশী থাকা অনেকের নাম কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
কমিটিতে স্থান পাওয়া কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমরা কঠিন সময়ের মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলাম। পদ-পদবির প্রত্যাশায় রাজনীতি করিনি; বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে রাজনীতি করেছি। জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। এ জন্য সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট ও প্রতিক্রিয়ায় নতুন কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন বলেন, “শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়া নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবেন—এটাই প্রত্যাশা।”
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন সাংগঠনিক পরিচয়ের অপেক্ষায় থাকা অনেক নেতাকর্মীর নাম এবার কমিটিতে এসেছে। তাদের জন্য এটি একটি সাংগঠনিক স্বীকৃতির বিষয়। যারা দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীল থেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখবেন—এটাই প্রত্যাশা।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ মে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে।
এ অবস্থার মধ্যে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের খবর প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন সাংগঠনিক পরিচয়ের অপেক্ষায় থাকা অনেক নেতাকর্মী কমিটিতে স্থান পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
