আবদুর রশিদ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান)
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা পানি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও নিরাপদ পানির উৎস নিশ্চিত করতে ঝর্ণাগুলো পুনরুজ্জীবিত ও সংরক্ষণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি)-এর একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো পানি। আমাদের ঝর্ণাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত ও সংরক্ষণ করতে হবে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই পানির উৎস নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আইসিআইএমওডির প্রদর্শিত সমাধানগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সফল পদ্ধতিগুলো কীভাবে পুরো পার্বত্য অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তা দেখতে হবে।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পটিকে অবশ্যই সফল হতে হবে। এর বাস্তবায়ন ও প্রসারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করা সরকারের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অগ্রাধিকার। স্থানীয় পানি সংকট নিরসন এবং স্প্রিংশেড—ঝর্ণা ও পানির উৎস—পুনরুজ্জীবিতকরণে আইসিআইএমওডির ‘এইচআই-সিএএস’ (HI-CAS) প্রকল্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।
বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামে জলবায়ু অভিযোজন, পানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের চাহিদা ও বাস্তবতার আলোকে জলবায়ু অভিযোজনসংক্রান্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আইসিআইএমওডি, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে তথ্যভিত্তিক, স্থানীয়ভাবে উপযোগী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, পানি নিরাপত্তা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও আইসিআইএমওডি তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
সাক্ষাৎকালে আইসিআইএমওডির প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে সংস্থাটির কান্ট্রি ফোকাল মাহমুদ আল হক পাটোয়ারী, হিন্দু কুশ হিমালয় অঞ্চলের সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজন সমাধান (HI-CAS) প্রকল্পের সিনিয়র প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর জেসিকা এমিলি ফুলউড এবং এইচআই-সিএএস (বাংলাদেশ)-এর কান্ট্রি প্রজেক্ট অফিসার মো. তৌফিকুল ইসলাম।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ রাশেদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
