সিবিএন ডেস্ক;

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চার আসামিকে হত্যা ও অস্ত্র আইনের পৃথক দুই মামলায় মোট ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

ফটিকছড়ি থানায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় পুলিশ প্রতিটিতে সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ এ আদেশ দেন। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

রিমান্ডে নেওয়া অন্য তিন আসামি হলেন মো. শামীম, সাফায়েত হোসেন এবং আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ভারতে পালানোর সময় ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

ডেভিড ইমন (২৫) ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ মোট ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, হত্যা ও অস্ত্র মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যকে শনাক্ত এবং আরও অস্ত্র উদ্ধারের স্বার্থে প্রতিটি মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

তিনি আরও জানান, রিমান্ড চলাকালে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্য, অস্ত্রের উৎস এবং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরিচালিত অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন।