জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:

কক্সবাজারের টেকনাফে টানা অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বন্যায় উপজেলার প্রায় আড়াই কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং ৩ হাজার ২৯৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে টেকনাফ পৌরসভায় ৫ জন, হ্নীলা ইউনিয়নে ৬৯৪ জন, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ১,০৮০ জন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ৬২৯ জন, সাবরাং ইউনিয়নে ৩৯৬ জন, বাহারছড়া ইউনিয়নে ৩৪৬ জন এবং সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নে ১৪৫ জন কৃষক রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে, আর সবচেয়ে কম ক্ষতি হয়েছে পৌরসভা এলাকায়।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বর্ষণে যেমন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, তেমনি আমনের বীজতলা, আউশ ধান, বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ও পানের বরজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশেষ করে আমনের বীজতলা ও পানের বরজে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সবজি ক্ষেতেরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বন্যায় ৬০ হেক্টর আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৪২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ১০ হেক্টর আউশ ধান নষ্ট হওয়ায় প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সবজি চাষেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৪০ হেক্টর সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। শসা, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, কাকরোল, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন ধরনের সবজিতে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে, টানা বর্ষণে প্লাবিত হওয়ায় অন্তত ৩০ হেক্টর পানের বরজ নষ্ট হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, পানের বরজে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্যার পানিতে আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় রোপণ কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য এখনো পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। তাই কৃষকদের দ্রুত পুনরায় বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

হ্নীলা ইউনিয়নের নাটমুরাপাড়া এলাকার কৃষক মো. সেলিম বলেন, “বংশ পরম্পরায় আমরা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। চলতি মৌসুমে চার একর জমিতে আমন চাষের জন্য ৩২০ কেজি ধানের বীজ দিয়ে বীজতলা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু টানা বর্ষণ ও বন্যায় পুরো বীজতলাই নষ্ট হয়ে গেছে।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, “এখনো সময় আছে। কৃষকদের দ্রুত পুনরায় বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রণোদনা পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।”