সংবাদদাতা:
বাবা হারা শিক্ষার্থী পরিবার চালাতে টমটম চালান, তদন্ত কেন্দ্রে ভাড়ায় নিয়ে পুলিশের টাকা দাবি; সাংবাদিক ও স্বজনদের জানালে মারধরের অভিযোগ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে
টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্য নেজামের বিরুদ্ধে বাবা-হারা স্কুলশিক্ষার্থী ও মিনিটমটম চালক আব্দুর রহমানের কাছ থেকে টাকা দাবি এবং পরে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানানোয় তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী আব্দুর রহমান টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত নুরুল আলমের ছেলে। ২০২৬ সালে এসএসসি ফলপ্রার্থী, শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তিন বোন ও দুই ভাইয়ের সংসারের দায়িত্বে সহযোগিতা করতে গত ছয় বছর ধরে টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
আব্দুর রহমান জানান, গত ৮ জুলাই মাগরিবের আগে শামলাপুর বাজার থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় দুইজন পুলিশ সদস্য তাকে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি গাড়িতে পর্যাপ্ত চার্জ না থাকার কথা জানালেও বারবার অনুরোধ করায় তার গাড়িতে একজন পুলিশ সদস্য উঠেন তাঁকে তদন্ত কেন্দ্রে পৌঁছে দেন।
তার অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর পুলিশ সদস্যরা তাকে বলেন, “তোমাকে কেন এনেছি জানো?” তিনি জানান, তখন তিনি বলেন, “আপনাদের পৌঁছে দেওয়ার জন্য এনেছি।” পরে তাকে ডিউটির কথা বলে ৫০০ টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, সারাদিন বৃষ্টির কারণে তেমন কোনো আয় হয়নি। গাড়ি না দেওয়াতে সে তার বাড়িতে ফিরে যান।
আব্দুর রহমান আরও বলেন, ঘটনার দিন তিনি সারাদিন প্রায় না খেয়েই ছিলেন। তার গাড়ি তারা রেখে দেয় যে, বিষয়টি তার চাচাতো ভাই নুরুল বশর এবং স্থানীয় সাংবাদিক আজিজ উল্লাহ ও জুবাইরুল ইসলাম জুয়েলকে কল দিয়ে জানান।
তার দাবি, পরে চাচাতো ভাই নুরুল বশর কিছুক্ষণ পরে গাড়িটি আনতে তদন্ত কেন্দ্রে যেতে বলেন, গেলে পুলিশ সদস্য নেজাম তার মোবাইল চেক করেন। ফোনের কললিস্টে স্থানীয় দুই সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য দেখে ওই পুলিশ সদস্য তাকে থাপ্পড় মারেন। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে বলা হয়, অন্যথায় গাড়ি ফেরত দেওয়া হবে না। পরে গাড়ি নিয়ে ফিরে এসে তিনি ঘটনাটি স্বজন ও সাংবাদিকদের জানান। স্থানীয় চিকিৎসক থেকে পরামর্শ করে ওষুধ খেয়েছেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন আব্দুর রহমান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্য নেজামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, আমি বর্তমানে একটি মামলার সাক্ষী হিসেবে ঢাকায় অবস্থান করছি। এমন কোনো অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাকা না দেওয়ায় টমটম চালককে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে মারধরের অভিযোগ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে
পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে
