অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ
শেফাইল উদ্দিন
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ এলাকায় এক যুবককে মারধর, শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ঈদগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর মা আমিনা বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগী শফি আলম আউলিয়াবাদ এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ির সামনে থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তার গতিরোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন, একজন আঙুলে কামড় দেন এবং তার হাতে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা শফি আলমের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা ঈদগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, অভিযোগে নাম আসা কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে একটি কথিত কিশোর গ্যাং-এর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে অতীতেও দারুস সালাম দাখিল মাদ্রাসার সুপারকে মারধর, এক যুবককে ছুরিকাঘাত, ডাকাতির অভিযোগসহ মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
