পেকুয়া প্রতিনিধি:
চার বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ। আগের টেন্ডার বাতিল হলেও নতুন করে কাজ শুরুর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মগনামা-ফুলতলা-কইড়্যাবাজার সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ ধুলো, কাদা, জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা পথে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের জন্য সড়কটি যেন এক অন্তহীন দুর্ভোগের নাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। উন্নয়নের নামে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও তারা একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক পাচ্ছেন না। ফলে জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হলেও তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নানা জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসমাপ্ত রেখেই এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পূর্বের টেন্ডার বাতিল করলেও এখন পর্যন্ত নতুন টেন্ডার আহ্বান কিংবা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ইট উঠে গেছে, কোথাও মাটির অংশ ধসে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদাময় হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টমটম ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয়রা জানান, এটি মগনামা ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ সড়ক। প্রতিদিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও জরুরি রোগীরা এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
শিক্ষক আশেক বিন জলিল বলেন, “প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজে যায়। বর্ষাকালে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারে না। একটি উন্নত সড়ক শিক্ষার পরিবেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু তালেব বলেন, “ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, বাজারে ক্রেতাও কমে গেছে। দ্রুত সড়ক সংস্কার হলে স্থানীয় অর্থনীতি আবার সচল হবে।”
চালক মোজাফফর বলেন, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। বড় বড় গর্ত এড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। গাড়ির যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। আমরা নিরাপদ সড়ক চাই।”
মগনামার বাসিন্দা সাংবাদিক খোরশেদ বলেন, “মগনামা-ফুলতলা-কইড়্যাবাজার সড়কটি শুধু একটি রাস্তা নয়; এটি পুরো ইউনিয়নের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিপণ্য পরিবহনের প্রধান লাইফলাইন। চার বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত পুনরায় টেন্ডার সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা জরুরি।”
মগনামার বাসিন্দা ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি রেজাউল করিম বলেন, “এই সড়কের দুরবস্থার খবর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। উন্নয়ন প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী বলেন, “পূর্বের ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় পুরো ইউনিয়নের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করে যাতে বাধাহীনভাবে কাজ সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, “এটি পেকুয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করা উচিত।”
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনিক জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতার অজুহাত না দেখিয়ে অবিলম্বে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। তাদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বছরের পর বছর অচল হয়ে থাকায় জনদুর্ভোগ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
