এম. এ. আজিজ রাসেল;
দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে সাউথ এশিয়ান একাডেমি ফর ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপ (SAAIL) ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজারের একটি পাঁচতারকা মানের হোটেলের হলরুমে তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুব নেতৃত্ব, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বহুপাক্ষিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া চীনের প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক করিডোর-সংক্রান্ত প্রস্তাবকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার ও চীন পর্যন্ত সম্ভাব্য এই অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তবে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না।
জেসিআই বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ-এর নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাহী বোর্ড এবং SAAIL ২০২৬ আয়োজক কমিটির যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক এই একাডেমির আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি আয়োজনের সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদীয়মান নেতা, জেসিআই সদস্য, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট অতিথিদের একত্র করেছে জেসিআই বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী অধিবেশনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জেসিআই নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ২০২৬ সালের জেসিআই ওয়ার্ল্ড প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রা কাস্তিয়ো, জেসিআই ইন্ডিয়া-র ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ভারত এন. আচার্য, জেসিআই নেপাল-এর ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট সিনেটর জীবন কার্কি এবং জেসিআই শ্রীলঙ্কা-র ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট জে.সি. সান্দুন উইরাসিংহে। তাঁদের উপস্থিতি আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের দৃঢ় বার্তা বহন করে।
তিন দিনব্যাপী এই একাডেমিতে অংশগ্রহণকারীরা নেতৃত্ব উন্নয়নবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সামাজিক প্রভাব সৃষ্টিমূলক যৌথ কার্যক্রম এবং বিশ্বখ্যাত নেতৃত্ব বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেবেন। পাশাপাশি সুস্থতা বিষয়ক কার্যক্রম, নেটওয়ার্কিং সেশন, সমুদ্রসৈকতভিত্তিক সামাজিক আয়োজন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
আগামী ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে একাডেমির সমাপনী ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান। এ সময় সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে গালা নাইট ও গালা ডিনারের মাধ্যমে, যেখানে নেতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদযাপন করা হবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, SAAIL ২০২৬ দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ নেতাদের দায়িত্বশীল বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এই একাডেমি নেতৃত্বের উৎকর্ষ, জ্ঞান বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক যুব নেতৃত্ব বিকাশে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে।
