এম. মনছুর আলম, চকরিয়া :
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করা বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় সচেতনতামূলক র্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথমে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি ফলজ, একটি বনজ এবং একটি ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
আয়োজিত কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আখের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ ও তার পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একযোগে বৃক্ষরোপণের এ উদ্যোগ সরকারের একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে পাহাড় নিধন, পাথর উত্তোলন, বন উজাড় এবং নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিকর দূষণ প্রতিরোধ এবং চারপাশের পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলছে। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে প্রকৃতির প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অথচ গাছ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ জরুরি। তাই নিজেদের অস্তিত্ব ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।
র্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফজলুল কাদের, সিনিয়র শিক্ষক হামিদা জান্নাত, এস. এম. নুরুন্নবী, নেছারুল হক, জুবাইদা বেগম, আনছারুল করিম ও নুরুল ইসলাম।
এ ছাড়া কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, স্কাউট দলের সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
