স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া;
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে পিতা-পুত্রের দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে এক জামাতার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি উপজেলার টইটং ইউনিয়নের দরগামোড়া এলাকায় ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিত অবস্থায় পরিবারের কর্তা নুরুন্নবী তার বসতভিটার সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, ছেলে আজিজুর রহমান নিজের অংশ বুঝে নেওয়ার পরও অন্য ভাই-বোনদের প্রাপ্য জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল।
পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন আজিজুর রহমান অন্যদের অংশের জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে নুরুন্নবী এতে বাধা দেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। পরে নুরুন্নবী পেকুয়া থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযুক্ত আজিজুর রহমান পালিয়ে যান। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আজিজুর রহমান ধারালো দা নিয়ে বাড়িতে ফিরে এসে নুরুন্নবী ও তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। তারা ঘরে আশ্রয় নিলে বাইরে থাকা নুরুন্নবীর মেয়ে জোবাইদা বেগমের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়।
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে জোবাইদা বেগমের ১৩-১৪ বছর বয়সী ছেলে হাসানকেও মাথা ও হাতে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
এ সময় শ্বশুরবাড়িতে ছুটে আসেন জোবাইদা বেগমের স্বামী মো. পারভেজ। তিনি অভিযুক্তকে থামানোর চেষ্টা করলে তার হাতে থাকা ধারালো কিরিচের আঘাতে পারভেজের ডান হাত কব্জির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মুঠোফোনে মো. পারভেজ জানান, ঘটনার সময় তিনি পাশের কাটা পাহাড় এলাকায় নিজ বাড়িতে ছিলেন। শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তানের চিৎকার শুনে দ্রুত সেখানে পৌঁছান। অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বাধা দিতে গেলে আজিজুর রহমান কিরিচ দিয়ে তার ডান হাতে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্ন হাতটি পুনরায় সংযোজন করা সম্ভব নয়। এছাড়া তার স্ত্রী জোবাইদা বেগমের একটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আজিজুর রহমান এর আগেও একাধিকবার ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছিলেন। তখন পারিবারিক সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও তিনি সেই সমঝোতা ভঙ্গ করে পুনরায় হামলা চালিয়েছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা গ্রহণ, গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আজিজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পেকুয়া থানার পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
