নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব নেতৃত্বাধীন ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি ‘ক্লাইমেট মেমোরি ম্যাপ: উপকূলের গল্প, ভবিষ্যতের সমাধান’।
শুক্রবার (১৯ জুন) যুব সংগঠন জাইদা বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এবং পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রাণ)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে স্থানীয় উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, তরুণ শিক্ষার্থী, জেলে সম্প্রদায়, শিক্ষক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইদা বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা আবুল মাবরুর মো. হামেদ হাসান এবং সভাপতিত্ব করেন নির্বাহী পরিচালক শাহরুখ করিম।
কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘কমিউনিটি ক্লাইমেট মেমোরি ম্যাপিং’। এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীরা একটি বৃহৎ ক্যানভাসে নিজেদের এলাকার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিজ্ঞতা, পরিবেশগত সংকট এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়গুলো চিত্র ও প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরেন।
ম্যাপিং কার্যক্রমে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বাস্তবতা উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানির সংকট, প্লাস্টিক দূষণ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং সবুজায়ন হ্রাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেন। একইসঙ্গে এসব সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও মতামত প্রদান করেন।
এছাড়া প্রায় শতাধিক তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে ‘ক্লাইমেট মোবিলাইজেশন’ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এ সময় তারা সমুদ্রসৈকতে আগত পর্যটকদের পরিবেশ সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ এবং জলবায়ু সচেতনতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। পাশাপাশি সৈকত এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছের চারা বিতরণ’ উদ্যোগও ব্যাপক সাড়া ফেলে। অংশগ্রহণকারীরা প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে গাছের চারা ও পরিবেশবান্ধব সামগ্রী সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে রুফটপ গার্ডেনিং, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষুদ্র পরিসরে সৌরশক্তি ব্যবহারের মতো স্থানীয় ও সাশ্রয়ী জলবায়ু অভিযোজন পদ্ধতির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রবীণ ও তরুণ অংশগ্রহণকারীরা অতীতের পরিবেশ, বর্তমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের একটি সবুজ ও টেকসই কক্সবাজার গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি স্টোরিটেলিং পর্বে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ কর্মসূচিতে ইয়ুথ অ্যাকশন ফর রাইটস অ্যান্ড জাস্টিস (ওয়াইএআরজে), ইয়ুথ কো-অপারেটিভ এন্ড সিভিল সোসাইটি (ওয়াইসিসিএস), ক্লাইমেট জাস্টিস বাংলাদেশ, একতা শক্তি যুব কল্যাণ সংস্থা, স্বপ্নতরী ভলান্টারি অর্গানাইজেশন, এসএসডি ইয়ুথ ফাউন্ডেশন এবং ম্যাজিক ইনিশিয়েটিভ-এর প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মাবরুর মো. হামেদ হাসান বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। তরুণদের নেতৃত্বে এমন উদ্যোগ একটি সচেতন ও টেকসই সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাইদা বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহরুখ করিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে বড় শক্তি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মানুষকে শুধু সচেতন করতেই নয়, বরং সমাধানের অংশীদার হিসেবেও সম্পৃক্ত করতে চাই।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
