আবু মোরশেদ চৌধুরী:

বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬,“যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ।”
আজ ২০ জুন, বিশ্ব পালন করছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস, একটি দিন, যা সংঘাত, নিপীড়ন, সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া কোটি কোটি মানুষের সাহস, সহনশীলতা ও অদম্য মনোবলকে সম্মান জানানোর জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে।
১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বর গৃহীত এক প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতি বছর ২০ জুনকে বিশ্ব শরণার্থী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২০০১ সাল থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য “যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ” (Until Everyone Is Safe) আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে নিরাপত্তা, আইনি সুরক্ষা, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং মর্যাদা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এগুলো প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার, যা সবার জন্য এবং সর্বত্র প্রযোজ্য।
নিজস্ব উন্নয়নগত চ্যালেঞ্জ ও সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অসাধারণ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজারে দশ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে, যারা মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও সহিংসতার মুখে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
যা একসময় জরুরি মানবিক সহায়তার বিষয় ছিল, তা এখন দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে। নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। ফলে তহবিল সংকট, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ, জনসংখ্যাগত চাপ, পরিবেশগত অবক্ষয়, সামাজিক সম্প্রীতির চ্যালেঞ্জ, জীবিকার সীমাবদ্ধতা এবং আশ্রয়সংক্রান্ত ঝুঁকিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে।
এই বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আমাদের দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং টেকসই আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতি অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের একার বোঝা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক দায়িত্ব। এর টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত মনোযোগ, কার্যকর সহযোগিতা এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ অপরিহার্য।
আসুন, আমরা বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও স্বপ্নের প্রতি সম্মান জানাই। তাদের অধিকার সুরক্ষা, মর্যাদা রক্ষা এবং টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করি।
যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ, ততক্ষণ আমাদের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকতে হবে। যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ, ততক্ষণ আমাদের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে।